ডেস্ক রিপোর্ট
২৯ এপ্রিল ২০২১, ৩:২৮ অপরাহ্ণ
বগুড়া প্রতিনিধি:: বোরো মৌসুমে ধানের দাম মণপ্রতি ১৫০০ টাকা নির্ধারণ ও প্রতি ইউনিয়নে ক্রয় কেন্দ্র খুলে খোদ কৃষকের কাছ থেকে কমপক্ষে ৫০ লাখ টন ধান সরকারিভাবে ক্রয় করার দাবিতে বগুড়ায় সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের মিছিল-সামবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২ টায় জেলা শাখার উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে নগরীর সাতমাথা কাজী নজরুল ইসলাম সড়কে মিছিল-সামবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট বগুড়া জেলা আহবায়ক কমরেড এ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু।
বক্তব্য রাখেন বাসদ বগুড়া জেলা সদস্যসচিব সাইফুজ্জামান টুটুল, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বগুড়া জেলা সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট বগুড়া জেলা সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।
কমরেড এ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, দেশের হাওর অঞ্চলে ইতিমধ্যেই বোরো ধান কাটা শুরু হয়ে ৪০% ধান কাটা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত সরকার ধান ক্রয়ের জন্য দাম নির্ধারণ করেনি। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবারে বোরো ধানের উৎপাদন খরচ গড়ে ২৬ টাকার উপরে পড়েছে বলে জানিয়েছে। সে ক্ষেত্রে আমরা দীর্ঘ দিন ধরে দাবি করে আসছি যে, উৎপাদন খরচের সাথে ৪০% মূল্য সংযোজন করে ধানের দাম নির্ধারণ করতে হবে। এটা না করলে দেশের কৃষি-কৃষক কৃষি কাজ করে টিকে থাকতে পারবে না। ফলে উৎপাদন খরচের সাথে ৪০% মূল্য সংযোজন করলে ধানের দাম মণপ্রতি ১৫০০ টাকা নির্ধারণ করার জোর দাবি জানান।
কমরেড সাইফুজ্জামান টুটুল বলেন, সরকার গত বছর ধানের দাম ২৬ টাকা কেজি অর্থাৎ ১০৪০ টাকা মণ নির্ধারণ করেছিল, কিন্তু খোলা বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি থাকায় সরকারি গুদামে কৃষক ধান বিক্রি করেনি। তাছাড়া যেহেতু ধান কিনবে কম এবং চাল কিনবে বেশি সরকারের এই ভুল নীতির কারণে চাতাল ও মিল মালিকরাও সরকারি গুদামে নির্ধারিত পরিমাণে চাল সরবরাহ করেনি। ফলে দেশে সরকারি মজুদ গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনি¤œ পর্যায়ে ঠেকেছে। আর এর সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ী বাজার সিন্ডিকেট কারসাজি করে চালের দাম ক্রমাগত বাড়িয়ে জনজীবনে দুর্ভোগ নামিয়ে এনেছে। আমদানী শুল্ক কমিয়ে দিয়ে ২০ লাখ টন খাদ্য শস্য আমদানীর ঘোষণা দিলেও সরকারিভাবে ২ লাখ টন এবং বেসরকারিভাবে ৬ লাখ টন মোট ৮ লাখ টন মাত্র আমদানী হয়েছে। তারপরও বাজারে চালের দাম কমছে না।
অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, গত বছরের এই সময়ে খাদ্য মজুদ ছিল ১২ লাখ টন, এ বছর তা তলানীতে নেমে এসে ৩ লাখ টনে ঠেকেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে কমপক্ষে ১৫ লাখ টন খাদ্য মজুদ থাকা উচিত। না হলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে বাধ্য। সরকারের ভ‚ল নীতির ফলে একদিকে কৃষক ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে বাড়তি দামে চাল কিনতে বাধ্য হচ্ছে ভোক্তা সাধারণ। কারণ কৃষক ধান উৎপাদন করে, চাল নয়। আর সরকার চাল বেশি কিনে ধান কম কেনে। এতে সরকার মধ্যসত্ত¡ভোগী চাতাল ও মিল মালিকদের মুনাফার স্বার্থই রক্ষা হয়। তাই কৃষি ও কৃষক বাঁচাতে কৃষিতে মূল্য সহায়তা দিয়ে ধানের দাম মণপ্রতি ১৫০০ টাকা নির্ধারণ করে কৃষক ও ভোক্তা বাঁচাতে বোরো মৌসুমে প্রতি ইউনিয়নে ক্রয় কেন্দ্র খুলে খোদ কৃষকের কাছ থেকে কমপক্ষে ৫০ লাখ টন ধান ক্রয় করার দাবি জানান।