ডেস্ক রিপোর্ট
২৪ এপ্রিল ২০২১, ৮:০২ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: আজ ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজায় শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের ৮ম বছরে, রানা প্লাজার সামনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্যে গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত দাবি জানান। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা মাহবুবুর রহমান ইসমাইল, মাসুদ রেজা, তাসলিমা আক্তার, মিজানুর রহমান অপু, কবির খান মনির, রাজু আহমেদ, জুলহাসনাইন বাবু প্রমুখ।
সকাল সাড়ে ১০টায় রানা প্লাজার সামনে নিহত শ্রমিকদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে তাদের সংগ্রামী স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর সমাবেশে বক্তারা বলেন, “রানা প্লাজা ভবন ধসিয়ে শ্রমিক হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বর্বরতম কাঠামোগত শ্রমিক গণহত্যা। ভবন মালিক সোহেল রানা, ভবনে অবস্থিত ৫টি গার্মেন্টের মালিকপক্ষ, সরকাররে সংশ্লিষ্ট র্কতৃপক্ষ, এরা সবাই এই হত্যাকাণ্ডের হোতা। কিন্তু গত ৮ বছরে রাষ্ট্র এই খুনিদের বিচার করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে বরং এই খুনিদেরই পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। যেমন, তারা বর্তমানে বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যাকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে এবং বেতন বঞ্চিত শ্রমিকদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার নির্যাতন করছে। সোহেল রানা ও তাজরীন গার্মেন্টের মালিক দেলোয়ারের বিচার হলে বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যার দুঃসাহস দেখাতে পারত না খুনিরা। বক্তারা দ্রুত সোহেল রানাসহ সকল খুনিদের বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, “নিহত নিখোঁজ শ্রমিকদের অনুদানের অর্থ দিতে গিয়ে রাষ্ট্র, মালিকপক্ষ চরম বৈষম্যের সৃষ্টি করেছে। মানুষের দয়া, অনুদানের টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে উধাও করে দেয়া হয়েছে। অথচ রানা প্লাজায় আহত শ্রমিকদের কেউ কেউ ভিক্ষা করেন। প্রায় ৬০ ভাগ আহত শ্রমিক গত ৮ বছর যাবত কর্মহীন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের অনেকেই প্রয়োজনীয় সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। ক্ষতিপূরণ-পুনর্বাসনের মৌলিক মানবিক ইস্যুগুলো সংশ্লিষ্টরা মনেই করতে চায় না।”
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে অধিকার আন্দোলনের উত্থাপিত দাবিসমূহ মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।