ডেস্ক রিপোর্ট
১৮ এপ্রিল ২০২১, ১০:৫২ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: বাঁশখালিতে কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বকেয়া বেতন-ভাতা এবং রোজার সময়ে অফিসের সময় পুণঃনির্ধারণের দাবিতে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের উপর এস.আলম. গ্রুপের নিরাপত্তারক্ষী, আনসার এবং পুলিশের নির্বিচার গুলিবর্ষণে, পাঁচজন শ্রমিকের মৃত্যু এবং অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হওয়ার ঘটনায় দায়ীদের শাস্তি, নিহত শ্রমিকদের আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ, আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ এবং বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধসহ শ্রমিকদের উত্থাপিত দাবিসমূহ অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট আজ ১৮ এপ্রিল ২০২১ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করে।
ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন, কোষাধ্যক্ষ জুলফিকার আলী, সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সাবেক সভাপতি খলিলুর রহমান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম হোটেলস ওয়ার্কার্স এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের আহবায়ক রাশেদুর রহমান রাশেদ প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন করোনা সংক্রমণরোধে সরকার ঘোষিত লকডাউনে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমজীবী মানুষরা কর্মহীন হয়ে অসহায়ত্ব-অস্থিরতা আর প্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মরত শ্রমিকেরা প্রাপ্ত মজুরি দিয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যায় ও দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতীর কারণে বর্ধিত ব্যয়ের কষাঘাতে যন্ত্রণার মধ্যে জীবন-যাপন করছে। এই শ্রমজীবী মানুষদের রক্ষার দায়িত্ব সরকার নেয়নি। আথচ সরকার শুধু এস.আলম গ্রুপের ঋণের ৩ হাজার কোটি টাকা মাফ করে দিয়েছে, প্রণোদনার নামে মালিকদের হাজার-হাজার কোটি টাকা নামমাত্র সুদে ঋণ দিয়েছে। অল্প মজুরিতে অধিক কাজ করানো, শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা আত্মসাৎ করা, প্রতিবাদকে নির্মম নিপিড়নের মাধ্যমে দমন করাসহ মালিকদের সকল অনৈতিক চর্চাকে প্রচ্ছন্নভাবে প্রশ্রয় দিচ্ছে। রাষ্ট্র নিপিড়িত কে রক্ষার বদলে নিপিড়কের ভারাটে বাহিনির ভ’মিকা নিয়েছে। রাষ্ট্রের এই দায়িত্বহীন আচরণ শিল্পমালিকদের আরোও নির্মম হতে উৎসাহিত করছে। তাই এস.আলম গ্রুপের মত ক্ষমতাবান মালিকরা গুলি করে ৫ জনকে হত্যা আর অর্ধশতাধিক শ্রমিককে হত্যাচেষ্টার মাধ্যমে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা চাওয়ার অপরাধের উত্তর দিয়েছে।
নেতৃবৃন্দ, সরকার এবং প্রশাসন ঘাতক মালিককে রক্ষা করতে সচেষ্ট হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন এবং জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটিকে প্রত্যাখান করে বলেন, প্রকৃত সত্য উদঘটনে বিচারবিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি একটি গণতদন্ত সংগঠিত হতে হবে।
সরকারের প্রতি অবিলম্বে গণতদন্ত কমিটি গঠনের আহবান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত করে তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দেশ এবং প্রবাসের প্রায় ৮ কোটি শ্রমজীবী মানুষের শ্রমে সৃষ্ট উৎপাদন আর তাদের দেওয়া করের টাকায় রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।
রাষ্ট্রের মালিক এই শ্রমজীবী মানুষেরা, পুলিশসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা এই শ্রমজীবীদের কর্মচারী। যদি পুলিশের গুলিতে ঐ ৫জন শ্রমিক নিহত হয়ে থাকে তাহলে চাকর হয়ে মালিকের বুকে গুলি করার মত দৃষ্টতা প্রতিরোধে দায়ী পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। আর যদি এস.আলম গ্রুপের নিরাপত্তা রক্ষীরা গুলি করে ঐ শ্রমিকদের হত্যা করে থাকে তবে শুধু সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তারক্ষী নয়, নির্দেশদাতা মালিকেরও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ ক্ষোভের সাথে নিহত শ্রমিক প্রতি ৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা প্রত্যাখান করেন। এই ঘোষণা কে হত্যা করে মাত্র ৩ লক্ষ টাকা দিয়ে শ্রমিকের জীবন কিনে নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসাবে অভিহিত করে নেতৃবৃন্দ প্রশ্ন রাখেন যে মাত্র ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কি মালিক বা কর্মকর্তারা কেউ জীবন দিতে রাজী হবেন। নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবার প্রতি আই.এল.ও কনভেনশন ১২১ অনুসারে আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ প্রদানের পাশাপাশি আহত প্র্যতেক শ্রমিকের বিনামূল্যে চিকিৎসা- ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা সমূহ অবিলম্বে পরিশোধের আহবান জানান।
নেতৃবৃন্দ, লকডাউনে কর্মহীন পর্যটন, পরিবহন, নির্মাণ, হোটেল-রেস্তোরা, দোকান-কর্মচারী, গৃহকর্মীসহ অপ্রতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের জন্য খাদ্য ও নগদ সহায়তা আর প্রতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের ঝুঁকি ভাতা, স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলেন, ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাাহনী দিয়ে শ্রমজীবী মানুষের ক্ষোভের বিস্ফোরণ কে দমন করতে পারবেন না।