ডেস্ক রিপোর্ট
১৪ এপ্রিল ২০২১, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল এবং সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ শ্রমিকদের যাতায়াতের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা না করে লক-ডাউনের মধ্যে কারখানা খোলা রেখে শ্রমিকদের হয়রানি ও ঝুঁকির মধ্যে ফেলার জন্য দায়ি মালিকদের শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার আশংকাজনক হারে বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সংক্রমণ নিয়ণত্রণের জন্য সরকার সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল। কিন্তু মুনাফালিপ্সু পোষাক মালিকদের জোটবদ্ধ চাপের কাছে সরকার নতিস্বীকার করে নিজ ব্যবস্থাপনায় শ্রমিক পরিবহনের ব্যবস্থা এবং কারখানায় স্বাস্থ্যবিধির যথাযথ বাস্তবায়নের শর্তে লক-ডাউনের মধ্যে পোষাক কারখানা খোলা রাখার অনুমতি দেয়। উৎপাদন এবং রপ্তানির প্রয়োজন দেখিয়ে শর্ত সাপেক্ষে কারাখানা খোলা রাখার অনুমতি নিয়ে গার্মেন্টস মালিকদের অনেকেই পূর্বের মতই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে শ্রমিকদের যাতায়াতের জন্য কোন পরিবহনের ব্যবস্থা করেননি কিংবা কার্যকরভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
নেতৃবৃন্দ বলেন, পরিবহন ব্যবস্থা ছাড়া শ্রমিকদের নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে একদিকে হয়রানির স্বীকার হতে হচ্ছে, যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় এবং রিক্সা বা
ভ্যান ভাড়া বাবদ অতিরিক্ত অর্থ ব্যায় করতে হচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকি ভাতা কিংবা স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে উৎপাদন কাজ চালু রাখতে হচ্ছে। যার সাম্প্রতিক প্রভাব হিসাবে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে, শ্রমিকরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরতে পারে আর দীর্ঘমেয়াদে শ্রমিকরা অল্প বয়সে কর্মক্ষমতা হারিয়ে সমাজের বোঝাই পরিণত হতে পারে।
নেতৃবৃন্দ, পরিবহনের ব্যবস্থা না করে শ্রমিকদের অতিরিক্ত ঝুঁকি ও হয়রানীর মধ্যে ঠেলে দেওয়ার জন্য দায়ী মালিকদের শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদেরকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়ে বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উৎপাদনের চাকা সচল রেখেছে যে শ্রমিক তাদের ঝুঁকি ভাতা দিতে হবে এবং ফ্রন্ট লাইনার হিসাবে বিবেচনা করে করোনা পরীক্ষা এবং টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ, করোনার অজুহাতে গতবছরের মত শ্রমিক ছাঁটাই, বেতন-ভাতা কর্তন, নির্যাতনের ঘটনার পুণরাবৃত্তি ঘটলে প্রতিরোধমূলক শ্রমিক
আন্দোলন গড়ে উঠবে বলে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন।