ডেস্ক রিপোর্ট

২৪ মে ২০২৫, ১০:১৭ অপরাহ্ণ

মানবিক মর্যাদা ও ঘরে বাইরে নারী নির্যাতন বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদী নারী সমাবেশ

আপডেট টাইম : মে ২৪, ২০২৫ ১০:১৭ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: বিদ্বেষ, বৈষম্য নয়; চাই মানবিক মর্যাদা ও সমান অধিকার এবং ঘরে বাইরে, গণপরিবহনে, কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর উদ্যোগে আজ জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে বিকাল ৪টায় প্রতিবাদী নারী সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রকৌশলী শম্পা বসু।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. স্নিগ্ধা রেজওয়ানা, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: মনীষা চক্রবর্ত্তী, দপ্তর সম্পাদক রুখশানা আফরোজ আশা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ।

সমাবশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনা দেশ থেকে পলায়ন করতে বাধ্য হয়েছে। এই জুলাই-আগষ্ট গণঅভ্যুত্থানে নারীদের বীরোচিত ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্দোলন যখন অনেকটাই স্তিমিত সেই সময় নারীরা সমস্ত অচলায়তন ভেঙে রাজপথে বের হয়ে আসে। সে সময় তারা রাতের অন্ধকারে আলোর মতো জ্বলে উঠেছিল। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গসহ সকল ধরনের বৈষম্য থেকে মুক্তির স্বপ্নে শ্রমিক, ছাত্র, নারী, জনতা সকলে গণঅভ্যুত্থানে শামিল হয়েছিল। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই নারীকে আর সেভাবে মূল্যায়ন করা হলো না। নারীর বিকাশের ক্ষেত্রে যে সকল বাধা সমাজে আছে সেগুলো দূর করার উদ্যোগ নেয়া হলো না। বরং তাকে নানা রকম নিপীড়ন নির্যাতনের মাধ্যমে ক্রমেই অমর্যাদাকর পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, নানামুখী অপতৎপরতায় নারীদের মর্যাদাবোধে আঘাত হানা হচ্ছে। কখনো ধর্মীয় মৌলবাদীদের দ্বারা কখনওবা ‘তৌহিদী জনতার’ নামে মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে। এসব ঘটনার সাথে জড়িত কাউকেই কোন শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। নারী সংস্কার কমিশনের দেওয়া সুপারিশের প্রেক্ষিতে দেশে এক অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করল হেফাজতে ইসলামসহ ধর্মান্ধ রাজনৈতিক দলগুলো। সুপারিশ বাতিলের সাথে সাথে পুরো কমিশন বাতিলের কথাও উচ্চারিত হলো। অন্য কমিশনগুলোর সকল বক্তব্যের সাথে সবাই একমত বিষয়টা এমন না কিন্তু সেগুলোর ক্ষেত্রে আলোচনা, সমালোচনা, তর্ক-বিতর্ক চলল। কিন্তু নারী কমিশনের সুপারিশের প্রেক্ষিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করে নারীদের গালিগালাজ করা হলো, টিএসসিতে নারী প্রতিকৃতি বানিয়ে তাকে মারতে মারতে কাপড় খুলে নেয়ার ঘটনা ঘটানো হলো। এক্ষেত্রেও রাষ্ট্র নির্বিকার।’

নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘নারীর সমঅধিকার এখন সময়ের দাবি। সমাজ এগিয়েছে, সমাজ পরিবারে মানুষের ভূমিকা বদলেছে, সামজিক বাস্তবতায় নারী পুরুষ কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করছে, পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব পালন করছে। এই পরিবর্তনের সাথে মিলিয়েই তো আইন এগিয়ে চলবে। এটাই গণতান্ত্রিক চিন্তা। কিন্তু ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী তো গণতন্ত্রের তোয়াক্কা করে না। তাই তারা নারীর এই অগ্রসর অবস্থানকে মেনে নিতে চান না, তারা আজও নারীকে গৃহবন্দী এবং পরুষের ভোগের সামগ্রী হিসেবে রাখতে চান। তাই তারা সমঅধিকারের বিরোধিতা করেন এবং ধর্ম গেল রব তোলেন।’

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে কর্মরত বিশাল অংশের নারীরা মজুরি বৈষম্যের শিকার হন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুরুষের অর্ধেক মজুরি তাদের দেয়া হয়। গৃহস্থালী কাজের কোন স্বীকৃতি নেই। গৃহ শ্রমিক হিসেবে কর্মরত শ্রমিকের আইনি স্বীকৃতি নেই, নারী শিশুর প্রতি অব্যাহত নির্যাতন চলছে, নারী সর্বত্র নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। নারীর মানবিক ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করে তার বিকাশের পথ সুগম করার মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রের অগ্রগতি সম্ভব। এছাড়া সমাজ পশ্চাদপদ অবস্থানেই থেকে যাবে।’

দাবি সমূহ:
১. সম্পত্তির সমানাধিকারসহ ইউনিফর্ম সিভিল কোড চালু কর
২. সকল ক্ষেত্রে, সকল স্তরে সমকাজে সমমজুরি বাস্তবায়ন কর
৩. নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা নিপীড়ন, নির্যাতন, হত্যা ধর্ষণ বন্ধ কর
৪. বাল্যবিবাহের বিশেষ বিধান (১৯ নং ধারা) বাতিলসহ বাল্যবিবাহ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নাও
৫. গৃহস্থালি কাজের আর্থিক মূল্য রাষ্ট্রীয়ভাবে নিরূপণ কর এবং স্বীকৃতি দাও
৬. গৃহশ্রমিকদের শ্রম আইনে অন্তর্ভূক্ত কর
৭. সিডও সনদের দুইটি ধারা সংরক্ষণ তুলে নাও এবং সিডও সনদ বাস্তবায়ন কর
৮. সাম্প্রদায়িক আক্রমণসহ সকল নারী বিদ্বেষী কর্মকান্ড বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ কর
৯. মব ভায়োলেন্স ও সাইবার বুলিং বন্ধ কর
১০. আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, পাহাড়ে-সমতলে আদিবাসী নারীদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা নিশ্চিত কর, নিরাপত্তা দাও
১১. সংরক্ষিত নারী আসন ১০০ চাই, প্রত্যক্ষ ভোট চাই। নির্বাচনে কালো টাকা, সাম্প্রদায়িকতা ও পেশী শক্তির ব্যবহার বন্ধ কর

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে রাষ্ট্রকে নারী নির্যাতন-ধর্ষণ বন্ধ এবং নারী বিদ্বেষী কর্মকান্ড, ধর্মান্ধ মৌলবাদীগোষ্ঠী দ্বারা নারীর প্রতি অবমাননা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে উপরোক্ত সকল দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। একই সাথে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে করিডোর, বন্দরে হাত দিয়ে সবকিছু লেজেগোবরে করে ফেলছে। ফলে অন্তর্র্বতী সরকার যথাযথ দায়িত্বপূর্ণ পালন না করায় সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। তাই পদত্যাগই সমাধান নয়; প্রয়োজন এখনই নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপড ঘোষণা করে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।
সমাবেশ পরিচালনা করেছেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট দিলরুবা নুরী

 

শেয়ার করুন