ডেস্ক রিপোর্ট

৩ জুলাই ২০২১, ১০:৪২ অপরাহ্ণ

অক্সিজেনের অভাবে রোগী মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি ছাত্র ইউনিয়নের

আপডেট টাইম : জুলাই ৩, ২০২১ ১০:৪২ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: অক্সিজেনের অভাবে করোনা রোগী মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিচারের দাবিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত। ৩ জুলাই, শনিবার বিকাল ৪ টায় রাজধানীর পল্টন মোড়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, কেন্দ্রীয় সংসদের উদ্যোগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক মিখা পিরেগুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয়। মানববন্ধনে কেন্দ্রীয় সংসদের কোষাধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেন বলেন, সাতক্ষীরা, খুলনা ও বগুড়ায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন রোগীর আত্মীয়-স্বজনেরা। সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অক্সিজেন স্বল্পতার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। নেই পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক নাজিফা জান্নাত বলেন, একদিকে সরকারি হাসপাতালগুলোতে দেশের নাগরিকরা অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছেন, অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালগুলো খুলে বসেছে বাজার। প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলো হয়ে উঠেছে বড়লোকদের ব্যক্তিগত চিকিৎসাখানা। অতিমারীর প্রায় দেড় বছর পরে এসেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতাল মালিকদের লাগাম টেনে ধরতে তো পারেই নি, উপরন্তু নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করবার জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন।

কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি জহর লাল রায় বলেন, বর্তমান সরকার গরীব, কৃষক, মেহনতী মানুষের স্বাস্থ্য-সুরক্ষার ব্যাপারে যে কতটা উদাসীন, তা করোনা পুনর্বার আমাদের সামনে উন্মোচিত করেছে। অতিমারীর সময় যেখানে সরকারের উচিৎ ছিলো শ্রমজীবি মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সেখানে তারা ধনিক শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যস্ত। শ্রমজীবি, দিনমজুর মানুষদের রেশনের ব্যবস্থা না করেই ঘোষণা করা হয়েছে লকডাউন। করোনাকালে বারবার অপরিকল্পিত লকডাউন ঘোষণার মধ্য দিয়ে গরীব মানুষদেরকে নিদারুণ কষ্টের মধ্যে ফেলা সরকার স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি বন্ধ করতে ব্যর্থ। করোনার টিকা নিয়ে সরকারের ঘনিষ্ঠ লোকজনের বাণিজ্যের ধান্ধা দেশের মানুষের অজানা নয়।

মানববন্ধনে কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন, এবারের বাজেটেও যথারীতি স্বাস্থ্যখাতকে উপেক্ষা করা হয়েছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে মাথাপিছু স্বাস্থ্য ব্যয় ২৭৫ মার্কিন ডলার, নেপালে ১৮০ আর মালদ্বীপে ১৪৪৩ মার্কিন ডলার। আর বাংলাদেশের মাথাপিছু স্বাস্থ্য ব্যয় মাত্র ১১০ মার্কিন ডলার, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন। পরিতাপের বিষয় জনগণের স্বাস্থ্য, শিক্ষাকে উপেক্ষা করে প্রতিবার জিডিপির আকাশচুম্বী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় এই দেশে, আর মাথাপিছু আয়ের অবাস্তব গল্পের পাশাপাশি তথাকথিত উন্নয়নের ফাঁপা বুলি আউড়াতে ব্যস্ত থাকেন আমাদের মন্ত্রী-এমপি’রা। করোনাকালে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন আর দরিদ্র মানুষেরা পড়েছেন সীমাহীন ভোগান্তিতে।

মানববন্ধন থেকে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সাতক্ষীরা,খুলনা এবং বগুড়ায় করোনাভাইরাসের রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের বিনামূল্যে বিনামূল্যে যথাযথ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা, সকল সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত এবং স্বাস্থ্যখাতে সকল দুর্নীতির তদন্ত করে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করবার দাবি জানান।

শেয়ার করুন