ডেস্ক রিপোর্ট
২৯ জুন ২০২১, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: সিলেট নগরীর রিকাবীবাজারে গির্জার ৮০ শতক জায়গার কাগজপত্র জাল-জালিয়াতি করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
ওই জায়গার সার্বিক বিষয় গোপন রেখে সাব-রেজিস্ট্রার, ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগোর যোগসাজশে অবৈধ কাগজপত্র তৈরি করে। জাল-জালিয়াতি করে আত্মসাৎ করা জায়গায় ২২ তলা ফাউন্ডেশনের ‘ইম্পালস বিল্ডার্স’ নামের একটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
আদালতে এই জায়গা নিয়ে মামলা চললেও সম্প্রতি অনুসন্ধানে জাল-জালিয়াতির প্রমাণ পায় দুদকের তদন্ত দল। সত্যতা পাওয়ায় দুদকের সমন্বিত সিলেট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে মঙ্গলবার (২৯ জুন) চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
বাদী বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলেন, কাগজপত্র জাল-জালিয়াতি করে গির্জার ৮০ শতক জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করার কাজ শুরু হয়। এ ঘটনায় আদালতে দেওয়ানি মামলা চললেও দুদকের তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় দুদক বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করে।
তিনি বলেন, মামলার আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে মিউনিসিপালিটি মৌজার জে এল নং-৯১ এর ৪০০৮ এবং ৪০০৯ দাগে ৭৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকা মূল্যের ৮০ শতক গির্জা শ্রেণির জায়গা জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আত্মসাৎ করেছেন।
আসামিরা হলেন- সিলেট সদর ভূমি অফিসের সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার (অবসরপ্রাপ্ত) মো. মজিবুর রহমান পাটোয়ারী (৬৭), ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম (৬০), মিউনিসিপালিটি সিলেট সদর ভূমি অফিসের সাবেক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (অবসরপ্রাপ্ত) আসবাহ উদ্দিন (৬০) ও সদর ভূমি অফিসের সাবেক কানুনগো (বরখাস্ত) মলয় কর (৫৫)।
দুদক সূত্র জানায়, ব্রিটিশ পুলিশ বাহিনীতে চাকরি করতেন হেরেঙ্গা লুসাই নামের এক ব্যক্তি। তিনি ছিলেন লুসাই সম্প্রদায়ের খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার মিউনিসিপালিটি মৌজায় ৪০০৮ এবং ৪০০৯ নং দাগে ১.৩৭০১ একর ভূমি পুলিশ লাইন্সে বসবাসরত খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনা এবং কবরস্থানের জন্য বরাদ্দ দিয়ে গির্জার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য হেরেঙ্গা লুসাইকে এই গির্জা সমিতির চেয়ারম্যান করা হয়। পরবর্তী সময়ে এ গির্জায় সমাহিত করা হয়েছিলো হেরেঙ্গা লুসাইকে।
কালের পরিক্রমায় এ জায়গার দেখভালের দায়িত্ব পড়ে হেরেঙ্গা লুসাইর উত্তরসূরি যৌবেল লুসাই নামের একজনের কাঁধে। কিন্তু তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইম্পালস বিল্ডার্সের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম নানা কৌশলে এখানকার ৮০ শতক জায়গা আত্মসাৎ করার চেষ্টা করে আসছিলেন। এক পর্যায় তিনি এ ভূমি লিজ নেন এবং পরবর্তী সময়ে তিনি একটি আমমোক্তারনামা তৈরি করেন। এভাবে তিনি কৌশল অবলম্বন করে ভূমিটিকে কেন্দ্র করে ১৫টি রেজিস্টার্ড লিজনামা, একটি রেজিস্টার্ড বায়নামা, একটি সাফকাবাল বেআইনি দলিল, একটি আনরেজিস্টার্ড লিজনামা সম্পাদিত করে পরে সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার, বরখাস্ত হওয়া কানুনগো ও ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার সাহায্যে নিজের নামে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে নেন। এরপর এসব কাগজপত্রের জোরে খ্রিস্টানদের গির্জার ৮০ শতক জায়গা ভোগদখল শুরু করেন।