ডেস্ক রিপোর্ট
৮ জুন ২০২১, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: প্রস্তাবিত বাজেটকে প্রত্যাখ্যান করে এবং জনগণের জীবন-জীবিকা রক্ষায় করোনা মহামারি মোকাবেলা এবং স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে বাজেট সংশোধনের দাবিতে বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
আজ ৮ জুন ‘২১ সকাল ১১-৩০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নুর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ হারুন উর রশিদ, গণতান্ত্রিক শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক শামীম ইমাম এবং বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি ইকবাল কবির। সমাবেশ পরিচালনা করেন পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য নজরুল ইসলাম।
সমাবেশে বক্তাগণ বলেন, বাজেটে করোনা মহামারি মোকাবেলায় কোন দিকনির্দেশনা নেই। বাজেট শ্রমিক কৃষক মধ্যবিত্ত ও মেহনতি মানুষ তথা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের স্বার্থ বিরোধী এবং গতানুগতিক। অর্থমন্ত্রী এবারের বাজেটকে জনগণের জীবন-জীবিকা রক্ষার বাজেট বললেও ঘোষিত বাজেটে বিন্দু মাত্র তার প্রতিফলন নেই। বাজেটে মূলত বড় ব্যবসায়ী, আমলা, কালো টাকার মালিক ও লুটেরা পুঁজিপতিদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতে মোট বরাদ্দ জিডিপির ১%। এই অপ্রতুল বরাদ্দ দিয়ে স্বাস্থ্যখাতের মহামারিকালীন বড় ধাক্কা সামলানো সম্ভব নয়। বাজেটে অর্থমন্ত্রী প্রতিমাসে ২৫ লক্ষ করে দেশের ৮০% মানুষকে টিকা দেয়ার কথা বলেছেন। এভাবে টিকা দেয়া হলে ৮০% মানুষকে টিকা দিতে প্রায় ৮ বছর লাগবে। ফলে টিকার মাধ্যমে করোনার বিরুদ্ধে হার্ড ইমিউনিটি ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাবে। তাই এখনই প্রতি মাসে অন্তত ৫০ লাখ মানুষকে টিকা দেয়ার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং যা ক্রমান্বয়ে বাড়াতে হবে। করোনা মহামারি মোকাবেলার জন্য দেশেই টিকা উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ, নানামুখী উৎস থেকে টিকা সংগ্রহ, হাসপাতাল সমুহের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষিত জনবল গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দিয়ে যে বরাদ্দ দেয়ার দরকার ছিল ঘোষিত বাজেটে তার প্রতিফলন নেই।
বাজেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের স্বার্থকেও উপেক্ষা করা হয়েছে। মহামারিকালে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের আয় কমেছে। কাজ হারিয়ে বেকারত্বের সংখ্যা বেড়েছে বহুগুণ। মধ্যবিত্ত, স্বল্প আয়ের মানুষ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংকট করোনাকালীন সময়ে বেড়েছে বহুগুণ। বাজেটে দেশের বৃহৎ এই জনগোষ্ঠীর স্বার্থ উপেক্ষিত থেকেছে। বিপরীতে বড় ব্যবসায়ীদের করপোরেট করহার কমানো, টার্ন ওভার সুদহার কমানো, বড়হারে ভ্যাট ছাড়সহ বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের মাধ্যমে যে প্রণোদনা দেয়া হয় তা মূলত বৃহৎ শিল্প মালিক ও বড় ব্যবসায়ীদের জন্য। আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হয় ছোট ও মাঝারি শিল্পে। অথচ এই শিল্প রক্ষায় সরকার কার্যকর কোন বরাদ্দ দেয়নি। বন্ধ রাষ্ট্রীয় পাটকল ও চিনিকল সমুহ আধুনিকায়ন ও চালু করার জন্য বাজেটে কোন বরাদ্দ দেয়া হয়নি। শিক্ষিত-অশিক্ষিত বিশাল বেকারদের কর্মসংস্থানের কার্যকর কোন দিকনির্দেশনা নেই এই বাজেটে।
শিক্ষা উপেক্ষিত থেকেছে বরাবরের মতোই। উল্টো বেসরকারি শিক্ষায় ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর কথা বলা হলেও আনুপাতিক বরাদ্দ বাড়েনি। করোনাকালে কৃষি তার গুরুত্বকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে। অথচ এই মহামারির সময়েও কৃষি ও কৃষক প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পায়নি। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য রেশনিং ও খাদ্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তা গুরুত্ব পায়নি বাজেটে।
আরও উদ্বেগের বিষয় যে, ৬,০৩,৬৮১ কোটি টাকার ঘোষিত বজেটে ঘাটতি ২,১৪,৬৮১ কোটি টাকা। এই বিশাল ঘাটতি বৈদেশিক ঋণ এবং সঞ্চয়পত্র, অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ও অন্যান্য খাত থেকে ঋণ নিয়ে মেটানো হবে। প্রতি বছর বাজেটের একটি বড় অংকের টাকা গৃহীত ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়। এবারও বাজেটে ৬৮,৬০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য। ক্রমাগত এই ঘাটতি বাজেট দীর্ঘমেয়াদে আমাদের অর্থনীতিকে ঋণের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে ফেললে সমগ্র জাতির জন্যই বিপর্যয় ডেকে আনবে, যা কোনভাবেই কাম্য হতে পারেনা।
বক্তাগণ বলেন, ঘোষিত বাজেটে শ্রমিক, কৃষক, বেকার যুবক এবং হতদরিদ্র ও স্বল্প আয়ের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সমস্যাকে আড়াল করে শিল্পপতি, বড় ব্যবসায়ী, আমলা ও লুটেরাদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এই বাজেট গণস্বার্থ বিরোধী ও লুটেরা বান্ধব। তাই, বক্তাগণ প্রস্তাবিত বাজেটকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং জনগণের জীবন-জীবিকা রক্ষায় করোনা মহামারি মোকাবেলা এবং স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে বাজেট সংশোধনের আহ্বান জানান।