ডেস্ক রিপোর্ট
৩ নভেম্বর ২০২২, ৯:২৭ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: অত্যাবশ্যক পরিষেবায় বাধা সৃষ্টি বা ধর্মঘট ডাকলে ৬ মাসের কারাদন্ড আর ধর্মঘটে সমর্থন দিলে ১ বছরের কারাদন্ডের বিধান রেখে, পরিবহন, ডাক ও টেলি যোগাযোগ, তথ্য প্রযুক্তি, ই-কমার্স, বিদ্যুৎ-গ্যাস-কয়লা উৎপাদন, সরবরাহসহ কতকগুলি খাতের নাম অন্তর্ভূক্ত করে এবং সরকারের ইচ্ছায় যেকোন খাত কে অত্যাবশ্যক হিসাবে ঘোষণা করার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা রেখে ”অত্যাবশ্যক পরিষেবা আইন’২২” মন্ত্রীসভায় অনুমোদনের নিন্দা এবং এই আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া বাতির করে শ্রমিকদের ন্যায়সংগত আন্দোলনের অধিকার কে সংকুচিত করার চেষ্টা বন্ধ করার আহবান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন এবং সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল।
যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিদ্যমান শ্রম আইনেই শ্রমিকদের ধর্মঘট আহবানের অধিকার কে নানাভাবে সংকুচিত করা আছে এবং সেখানে আহুত ধর্মঘটে সরকার ও আদালতের হস্তক্ষেপ করার ও ধর্মঘট বন্ধ করার সুযোগ আছে। প্রচলিত আইনে সমাধানের বিধান থাকা সত্ত্বেও ধর্মঘট এবং ন্যায় সংগত ধর্মঘটে সমার্থন দেওয়া কে অপরাধ হিসাবে গণ্য করা এবং যেকোনো সেবা কে অত্যাবশ্যক পরিষেবা ঘোষণা করার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা রেখে আলাদা আইন প্রণয়নের এই প্রক্রিয়া পরিবহন, হোটেল-রেস্তোঁরা, পর্যটন, গার্মেন্টসসহ সকল শিল্প ও সেবা খাতের ট্রেড ইউনিয়ন কর্মীদের মধ্যে অধিকার সংকোচন ও নিপিড়নের আশংকা ও উদ্বেগ তৈরী করছে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনে কোনো শ্রমিকদের আন্দোলনের অধিকার সংকুচিত করতে হলে সেই খাতে কর্মরত শ্রমিকদের ন্যায্য সকল প্রাপ্য নিশ্চিত করা জরুরী। উল্লেখিত ”অত্যাবশ্যক পরিষেবা আইন’২২” এ ধর্মঘট আহবান বা সমর্থন করলে শাস্তির কথা বলা হলেও সংশ্লিষ্ট খাতের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরিসহ শ্রমাধিকারসমুহের সুরক্ষা দেওয়ার কোনো কথা বলা নেই। যা প্রকারন্তে মালিক শ্রেণী প্রভাবিত রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় শ্রমিক অধিকার সংশ্লিষ্ট কর্মীদের উপর নিপিড়ন চালানোর নতুন হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
নেতৃবৃন্দ, দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রতিক পরিবহন ধর্মঘটের ঘটনা যার পেছনে সরকার সংশ্লিষ্টদের ভ’মিকা রয়েছে বলে অভিযোগ আছে সেই ঘটনা ব্যবহার করে এই ধরণের আইন প্রণয়ন প্রচেষ্টা উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপিয়ে স্বার্থ উদ্ধারের অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। নেতৃবৃন্দ, অবিলম্বে ”অত্যাবশ্যক পরিষেবা আইন’২২” প্রণয়ন প্রক্রিয়া বন্ধ করে শ্রমিক অধিকার সংকোচনের এই অপচেষ্টা বন্ধ করার জোর দাবি জানান।