ডেস্ক রিপোর্ট
১৮ জুলাই ২০২২, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: নড়াইলসহ সারা দেশে সাম্প্রদায়িক হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এবং সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন রুখে দাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে রাজধানীতে বাসদের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত।
আজ সোমবার, ১৮ জুলাই বিকেল ৫ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জুলফিকার আলী, ঢাকা মহানগর বাসদ নেতা আহসান হাবিব বুলবুল, খালেকুজ্জামান লিপন ও ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ।
সমাবেশে শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব, পুরানা পল্টন, বিজয়নগর, সেগুনবাগিচা বাজার ঘুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে এসে শেষ হয়।
সমাবেশে কমরেড ফিরোজ গত ১৫ জুলাই ’২২ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দীঘুলিয়ায় এক যুবকের ফেসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অবমাননার অজুহাতে সাহাপাড়ায় সংখ্যালঘু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়ি-ঘর, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে হামলাকারী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের এবং ইন্ধনদাতাদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তিনি বলেন, সারাদেশে অব্যাহতভাবে বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, নির্যাতন, ভূমিদখলের ঘটনা ঘটে চললেও সরকার- প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে কার্যকর কোন ব্যবস্থাতো নেয়নি বরং তাদেরকে নানাভাবে আশ্রয় প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকার দলীয় লোকেরাই এসব সাম্প্রদায়িকতার সাথে যে যুক্ত তার প্রমাণ পাওয়া যায়। সংবাদ পত্রের খবরে প্রকাশ হয়েছে এবারের ঘটনায়ও আওয়ামীলীগ নেতারা ও পুলিশ ঘটনার সময় সেখানে থাকলেও তারা থামানোর চেষ্টা করেনি বরং উস্কানী দিয়েছে। যার ফলেই একের পর এক হামলা নির্যাতনের ঘটনা ঘটাতে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি এতো সাহস দেখাচ্ছে।
কমরেড ফিরোজ বলেন, বর্তমান সরকারী দল মনে করে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা দেশে থাকলে ভোট ব্যাংক আর দেশ ছেড়ে গেলে তাদের জমি সম্পত্তি তাদের দেখলে যাবে। স্বাধীনতার পর থেকেই সকল সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে দেশ পরিচালনা করে আসছে। যে কারণে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িকাতা, জাত-পাত, ধর্মীয় বিভেদ-বিভাজন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে, রাষ্ট্র ও সরকারের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনকেই শক্তি যোগায় এবং শোষিত-শ্রমজীবী, মেহনতি মানুষের ঐক্য নষ্ট করে, দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়।
কমরেড ফিরোজ বান্দারবানের লামায় রংধজন ত্রিপুরার উপর ভ‚মিদস্যু রাবার বাগানের মালিকের সন্ত্রাসীদের হামলা ও মারাত্মক আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে হামলাকারী সন্ত্রাসীদেরও গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন। একই সাথে লামায় ম্রো ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের জমি দখলকারী ভূমিদস্যু রাবার মালিককে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
কমরেড ফিরোজ সকল ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সাথে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সন্ত্রাস এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সকল বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।