ডেস্ক রিপোর্ট

৯ মে ২০২১, ১০:২৪ অপরাহ্ণ

তিন দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ছাত্র ফ্রন্টের স্মারকলিপি

আপডেট টাইম : মে ৯, ২০২১ ১০:২৪ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: সকল শিক্ষার্থীকে করোনা ভ্যাকসিন দাও, শিক্ষাজীবনের অনিশ্চয়তা দূর করে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনার রোডম্যাপ দ্রুত ঘোষণা কর, অনলাইন ক্লাস-পরীক্ষার জন্য বিনামূল্যে ডিভাইস ও ইন্টারনেট সেবা দাও, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা কর, করোনাকালের বেতন-ফি ও মেস ভাড়া মওকুফ কর, ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার দাবিতে ছাত্র ফ্রন্ট এর বিক্ষোভ।

আজ রোববার, ০৯ মে করোনা কালের উদ্ভুত পরিস্থিতিতে চলমান শিক্ষা সংকট ও অনিশ্চয়তা নিরসনের আহ্বান জানানো সহ উক্ত তিন দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

স্মারকলিপি পেশের আগে কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১১ টায় কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স এর সভাপতিত্বে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স বলেন, “করোনা মহামারীর এই সময়ে সকল শিক্ষার্থীকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভ্যাকসিনেশন সেন্টার স্থাপন করতে হবে। তাদের শিক্ষাজীবনের যে অনিশ্চয়তা তা দূর না করে, কোন ধরণের ডিভাইস ও ইন্টারনেটের ব্যবস্থা না করে, অনলাইন শিক্ষা-কার্যক্রম চলতে পারেনা। অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরাবরাহ করার দাবি জানাই”।

তিনি আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনটি বলছে, করোনার আগে বাংলাদেশে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে ১০০ জনে ১২ জন বেকার ছিলেন। এখন তা দ্বিগুণ হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শেষ হয়ে গেলেও একটা বড় অংশের শিক্ষার্থীর আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফেরা হবে না। শিক্ষা ব্যবস্থার এই বিপর্যয় থেকে উত্তরণের উপায় কি, তা নিয়ে কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, ভাবনা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের তরফ থেকে এখনো জানা যায়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে পরীক্ষা এবং ছুটি বৃদ্ধি হবে কিনা তা জানানো। এদিকে করোনার এই সময়ে দেশের অনেক শ্রমজীবী মানুষ তাদের কাজ হারিয়েছেন। তাদের সন্তানদের শিক্ষাজীবন আজ হুমকির মুখে। বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও চাকরিচ্যুত হয়েছেন, বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। তাই ক্ষতিগ্রস্থ সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে অবিলম্বে আর্থিক প্রণোদনা দিতে হবে”।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মুক্তা বাড়ৈ বলেন “শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন রক্ষার কোন আয়োজন এই সরকারের নেই। উল্টো নামে বেনামে নানা ধরনের বেতন ফি আদায় করা হচ্ছে। যদি বেতন ফি মওকুফ করা না হয়, তাহলে ছাত্রসমাজ চুপ করে ঘরে বসে থাকবে না। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ জারি থাকবেই”।

এছাড়া সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সুহাইল আহমেদ শুভ, ঢাকা নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অনিক কুমার দাস, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠক তাহমিদ হোসেন।

সমাবেশ শেষে একটি মিছিল তোপখানা রোড এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এছাড়াও সারাদেশে জেলায় জেলায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পাঠানো হয়।

শেয়ার করুন