ডেস্ক রিপোর্ট
২৯ জুন ২০২২, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: গতকাল ২৮ জুন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী তার নির্ধারিত সময়ের বক্তব্যে বন্ধ পাটকল চালু সম্পর্কে বলতে গিয়ে একবার বলেছেন, “পাটকল বন্ধের পর পরবর্তীতে প্রাইভেটের মাধ্যমে সমস্ত পাটকল চালু করা হয়েছে।” এবং এরপর বলেছেন, “লিজ প্রকিয়ার মাধ্যমে ৭ টি পাটকল চালু হয়েছে এবং আরও কিছু চালু করার প্রক্রিয়ায় আছে।” যা সম্পুর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। পাটমন্ত্রীর এই মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য বন্ধ পাটকল শ্রমিকদের ব্যথিত ও বিক্ষুব্ধ করেছে। সত্য তথ্য হল, লিজ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এখনো পর্যন্ত ২ টি পাটকল (বাংলাদেশ জুটমিল, ঘোড়াশাল ও কেএফডি জুটমিল, চট্টগ্রাম) আংশিক ভাবে চালু হয়েছে। বাংলাদেশ জুটমিল বন্ধের পূর্বে যেখানে শুধুমাত্র স্থায়ী শ্রমিক ছিল ২৩০০ জন। সেখানে এখন লিজ প্রক্রিয়ায় চালু করার পর শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে মাত্র ৪৫০-৫০০ জন। যেখানকার শ্রমিকদের বর্তমান বেতন ২০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩২০ টাকা পর্যন্ত। অথচ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে সর্বনিম্ন বেতন ছিল ৫৭০ টাকা। কেএফডি জুটমিলে শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে মাত্র ২৫০-৩০০ জন।
২৫ টি পাটকলের মধ্যে মাত্র ২ টি পাটকল আংশিক ভাবে চালু করে উনি একবার দাবি করছেন সমস্ত পাটকল পুনরায় চালু করা হয়েছে, আবার পরক্ষণেই বলছে ৭ টি চালু করা হয়েছে, যার সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই।
উনি বলেছেন, “গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে সমস্ত শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে, ” যা অর্ধসত্য। বন্ধ ২৫ টি জুটমিলের মধ্যে ৫ টি (খালিশপুর জুটমিল, দৌলতপুর জুটমিল, জাতীয় জুটমিল, আরআর জুটমিল ও কেএফডি জুটমিল) জুটমিলের একজন শ্রমিককেও একটি টাকা পরিশোধ করা হয়নি।
পাটকল রক্ষায় শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতা ঐক্যের নেতারা মনে করেন পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী নিজে একজন প্লাস্টিক ব্যবসায়ী। তাই প্লাস্টিক ব্যবসায়ীদের গোষ্ঠীগত সার্থে এবং অতীতে বন্ধকৃত প্রতিষ্ঠান সমূহের ন্যায় এখানকার লোভনীয় সম্পদ লুটপাট করার অসৎ উদ্দেশ্য থেকে এই পাটকল সমূহ বন্ধ করা হয়েছে। যার কারণে পাটকল বন্ধের সময় হিসেবে যেমন একটা অন্ধকার সময় (মহামারী করোনার সময়)কে বেছে নেওয়া হয়েছে। তেমনি তারা শুরু থেকেই শ্রমিকদের দিয়ে আসছে মিথ্যা আশ্বাস। পাটকল বন্ধের সময় তারা বলেছিল, দুই মাসের মধ্যে শ্রমিকদের সমস্ত বকেয়া পাওনা পরিশোধ করে ৩ মাসের মধ্যে পুনরায় পাটকল চালু করা হবে। দুই বছর পার হয়ে গেলেও যেটা আজ কথার কথা মাত্র।
এহেন পরিস্থিতিতে আমাদের জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী যখন মিথ্যা তথ্য প্রদান করে সমস্ত দেশবাসীকে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেন, তখন আমরা চুপ থাকতে পারি না। হাজার হাজার কোটি টাকার দেশের সম্পদ যেখানে নষ্ট ও বেহাত হওয়ার পথে, সেখানে উনি মিথ্যা তথ্য হাজির করে সেটাকে যে আরও তরান্বিত করতে চান তা আমাদের বুঝতে বাকি থাকে না। ফলে সংগত কারণেই পাটকল রক্ষায় শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতা ঐক্যের পক্ষ থেকে আমরা পাটমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করি। সাথে সাথে বক্তব্য প্রত্যাহার করে সংসদে দাঁড়িয়ে জাতীর কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাওয়ার জোর দাবি জানায়।