ডেস্ক রিপোর্ট
৮ মে ২০২১, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: জামিন কোনো দয়া-মায়ার ব্যাপার নয়, জামিন পাওয়া মানুষের অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকেরা। তারা বলছেন, আজকে বিচারক ও আদালতগুলো সরকার ধারা নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু পাকিস্তান আমলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে নিম্ন আদালতেই জামিন দিয়ে দেওয়া হতো। হাইকোর্টে যাওয়া লাগত না। অথচ আজকে আমাদের ৫৯ জন ছাত্র জামিন পাচ্ছে না।
শনিবার দুপুরে প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি দেয়ার কথা জানাতে এবং ঈদের আগেই গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রদের জামিনে মুক্তির দাবিতে নাগরিক সংবাদ সম্মেলনে আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ড. কামাল হোসেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি।
গত কয়েক মাসে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলাসহ বিভিন্ন মামলা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫৯ জন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারকে ঈদের আগে মুক্তি দিতে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়েছে নাগরিক সমাজ।
সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, ছাত্রদের জামিন দেওয়া উচিত, জামিন একটা অধিকারের ব্যাপার। জামিন কোনো দয়া-মায়ার ব্যাপার না।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জামিন আমাদের মানবিক ও আইনগত অধিকার। এটা তো আমাদের ছাত্র জীবন থেকে খুব সহজ সরলভাবে বুঝে এসেছি। আজকে আমাদের মূল সমস্যা হলো বিচারকগণ বিবেকবান নয়। তারা অত্যাধিকভাবে সরকার ও পুলিশ নিয়ন্ত্রিত। কোর্টে গেলে বলে, সরকার না বললে তো হবে না। এই জিনিসটাই চিঠিতে আমাদের প্রধান বিচারপতিকে বলেছি আমরা।
তিনি আরও বলেন, আর কয়েক দিন পরে ঈদ। তাই আমরা সরকারের কাছে আবেদন করেছি। সেই সঙ্গে প্রধান বিচারপতিকেও বলেছি, তার যে সাংবিধানিক অধিকার ও ক্ষমতা আছে সেটাকে প্রয়োগ করে এই ছাত্রদের ঈদের পূর্বে জামিনের ব্যবস্থা করুন।
ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, আমি একটা বিষয় দুর্ভাগ্যের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি যে, প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছিলেন যে মাতৃভাষায় তাদের বিচারের রায়গুলো দেবেন। কিন্তু লক্ষ্য করুন কয়জনে বাংলায় রায় লিখছেন। তার কথা না মানা হচ্ছে বিচার ব্যবস্থা না মানা, এটা কোনো ব্যক্তির নির্দেশ নয়। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে তার কঠোর দায়িত্ব পালনের আহ্বান করছি।