ডেস্ক রিপোর্ট

১৪ জুন ২০২২, ২:৫২ অপরাহ্ণ

ভূমিহীনদের খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ

আপডেট টাইম : জুন ১৪, ২০২২ ২:৫২ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

বরিশাল প্রতিনিধি:: ভূমিহীনদের খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়া সহ সকল নিত্যপণ্য মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রোধ ও প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে বরিশালে গণসংহতি আন্দোলনের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত

আজ মঙ্গলবার (১৪ জুন ২০২২) কাল সাড়ে ১০ টায় গণসংহতি আন্দোলন বরিশাল জেলা আহ্বায়ক দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলুর সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সদস্য সাকিবুল ইসলাম সাফিনের সঞ্চালনায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির সদস্য সচিব আরিফুর রহমান মিরাজ, সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সদর উপজেলার সদস্য সচিব ইয়াসমিন সুলতানা, বাংলাদেশে ছাত্র ফেডারেশন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষা ও রাজনৈতিক বিষয় সম্পাদক সজীব ওয়াফি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জামান কবির, বরিশাল জেলা সভাপতি জাবের মোহাম্মদ ও সহ-সভাপতি হাছিব আহমেদ ও রুহুল আমিন প্রমুখ।

এসময় নেতৃবৃন্দ বলেন, “দেশে এখন চলছে বোরো ধানের ভরা মৌসুম। প্রতিবছর এসময় চালের দাম কমতির দিকে থাকে। কিন্তু এবার চিত্র উল্টো। অটো রাইস মিল মালিকরা চাল মজুত করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চালের সংকটের কথা চিন্তা করে সবাই মজুত করতে শুরু করেছে। ফলে ভরা মৌসুমেও চালের বাজার উর্দ্ধমুখী। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় না। সরকারের অব্যাবস্থাপনার ফলে হাওরের কৃষকরা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবার তাদের উৎপাদিত পন্যই দ্বিগুন দামে তাদের ক্রয় করতে হচ্ছে। সরকারের দুর্বল বাজার মনিটরিং এর জন্য এমন সিন্ডিকেট বারবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তাই অবিলম্বে বাজার মনিটরিং বাড়াতে হবে। কৃষকের উৎপাদিত ফসলের লাভজনক দাম নিশ্চিত করতে হবে। কৃষিখাতে ভর্তুকির পরিমান বাড়ানো সহ দক্ষিণাঞ্চলে পর্যাপ্ত রাইস মিল তৈরি ও হাওরবাসীদের দুর্যোগ মোকাবিলায় টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।”

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বাজেট পেশকালে জ্বালানি তেল ও সারের দাম পর্যায়ক্রমে ও স্বল্প আকারে বাড়িয়ে সমন্বয় করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। আমরা এমন বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি। জ্বালানি তেলের সাথে সরাসরি পরিবহন খরচ যুক্ত। তেলের দাম আরো বাড়লে এর প্রভাব অন্যান্য খাতেও পরবে। অথচ প্রস্তাবিত বাজেটেও জ্বালানি তেলে ভর্তুকিতে কোন অর্থ বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়নি। অপরদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে সরকার বছরে হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েই চলছে৷ যা জনগনের পকেট কাটার সামিল ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, গত কয়েক মাসের উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে সীমিত আয় ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জীবনে ভোগান্তি বেড়েছে। কিন্তু আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মধ্যবিত্তের ওপর চাপ কমানোর তেমন ঘোষনা নেই, বরং বাজেটের কিছু কর প্রস্তাব তাদের বাড়তি চাপে ফেলবে।এতে তাদের ভোগান্তি ও খরচ বাড়বে।

শুল্ক-কর বাড়ানোর ফলে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়বে, যা মধ্যবিত্তের খরচ বাড়াতে বাধ্য করবে। মূল্যস্ফীতির চাপে নিম্ন আয়ের মানুষদের সংসার খরচ বেড়েছে। তাঁদের কিছুটা স্বস্তি দিতে করমুক্ত আয়সীমাও বাড়ানো হয়নি বাজেটে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হলে কিছুটা স্বস্তি মিলত। নিম্নমধ্যবিত্তের স্বস্তি দেওয়ার বদলে কর আহরণকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বাজেটে রাষ্ট্রিয় উদ্যোগে খাদ্যপন্য মজুদ,রেশন ব্যবস্থা, ন্যূনতম মজুরি ও হতদরিদ্র কর্মহীনদের নগদ সহায়তার নির্দেশনা নেই।
সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ বৃদ্ধি ছাড়া জনকল্যাণ অর্জন করা সম্ভব নয়। সবদিকথেকেই এই বাজেট গনবিরোধী বাজেট। এখানে শ্রমজীবী মেহনতী মানুষের কোন স্বার্থ রক্ষা করা হয়নি। আছে শুধু বিভিন্ন শুল্ক ও পরোক্ষ করের চাপ।

স্বাস্থ্য খাতকে লক্ষ্য করে তারা বলেন, করোনাকালীন সময়ের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য খাতের দিকে সরকারের নজর নেই। গতবছর স্বাস্থ্য খাতের মোট বরাদ্দের ৫৯% শতাংশ এখনও অব্যবহৃত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সক্ষমতা না বাড়ালে এবারের বরাদ্দও ফলপ্রসূ হবে না। স্বাস্থ্যখাতে হয়রানি বাড়ছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সেবা না থাকয় রোগীরা বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডাক্তারের চেম্বারের দিকে ঝুঁকছে।

দক্ষিনাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ভীষণ নাজুক। এখানে গুরুতর রোগ সনাক্তকরনে কোন মেশিন সচল নয়। হাসপাতালের সেবার মান বাড়াতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের নজরদারি বাড়াতে হবে৷ হাসপাতাল কেন্দ্রীক সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে।

আগামী চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই শিক্ষানীতি প্রনয়নের কথা উল্লেখকরে নেতৃবৃন্দ বলেন, গতবছর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে ডিজিটাল ডিভাইস বিতরন করা হয়েছিল তার অনেকাংশই ডিজিটাল ল্যাব ও দক্ষ শিক্ষকের অভাবে আলোর মুখ দেখেনি। দেশকে উন্নতির দিকে ধাবিত করতে হলে শিক্ষা ব্যাবস্থার আমূল পরিবর্তন দরকার। বাজেটে অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় কমানো, প্রতিরক্ষা খাতসহ সরকারি ক্রয়খাতে ব্যয় কমিয়ে শিক্ষাখাতে ৩০ শতাংশ বরাদ্দ করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, চড়া মূল্যস্ফীতিতে দেশের নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনে চরম হাহাকার নেমেছে। তিনবেলা খাবারের পরিবর্তে দুবেলা খাচ্ছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে তারা কম খরচ করছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের আগামী প্রজন্ম শিক্ষা বঞ্চিত রুগ্ন জনগোষ্ঠীতে পরিনত হবে। তাই গ্রাম ও শহরের সকল কৃষক ও শ্রমিকের বেঁচে থাকার মত নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। আমাদের সাথে আজ ভূমিহীনরা তাদের ন্যায্য ভূমির অধিকার তুলেছে। অবিলম্বে তাদের খাস জমি ও আবাসনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

 

শেয়ার করুন