ডেস্ক রিপোর্ট
৩১ মে ২০২২, ৩:২৩ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: ৫ টি জুটমিলের ( খালিশপুর জুটমিল, দৌলতপুর জুটমিল, জাতীয় জুটমিল, আর আর জুটমিল ও কে এফ ডি জুটমিল) এরিয়ার টাকা সহ সকল বকেয়া পাওনা অবিলম্বে পরিশোধ করা সহ ৫ দফা দাবিতে আগামী ২০ জুন ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার শ্রমিক সমাবেশ করবে শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতা ঐক্য। সোমবার (৩০ মে) সকাল ১১ টায় শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতা ঐক্যের কার্যালয়, বিআইডিসি রোড, খালিশপুরে বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রাষ্ট্রীয় উদ্যেগে চালু ও শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে ঢাকা কর্মসুচি ঘোষনার উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পাটকল রক্ষায় শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতা ঐক্যে’র সমন্বয়ক রুহুল আমিন।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন- খালিশপুর জুটমিলের শ্রমিক নেতা মোঃ শফিউদ্দিন শফি, আলমগীর কবির, আব্দুর রশিদ, মোঃ চান মিয়া, মোঃ কাঞ্চন, মোঃ উজ্জ্বল, আব্দুল হাকিম, মোসাঃ হাজেরা বেগম, মোঃ রবিউল, মোঃ মফিজ, মোঃ সুমন, স্টার জুটমিলের নেতা আলমগীর হোসেন, হাসিবুর রহমান, ক্রিসেন্ট জুটমিলের মোশাররফ হোসেন, নাসিমা আক্তার, মোসাঃ শিরিন, প্লাটিনাম জুটমিলের আব্দুস সাত্তার, শহিদুল ইসলাম, জেজেআই জুটমিলের সামস শ্যামল, নিয়াজ মুর্শিদ দোলন সহ বিভিন্ন মিলের নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিক প্রতিনিধি গন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আপনারা অবগত আছেন যে, গত ২০২০ সালের ২ জুলাই সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫ টি পাটকল একযোগে বন্ধ ঘোষণা করে(যদিও নোটিশে তারা বলেছিল এটা মিল বন্ধ নয়, উৎপাদন বন্ধ)। বন্ধের সময় পাটমন্ত্রী ঘোষণা করে যে, আগামি দুই মাসের মধ্যে শ্রমিকদের সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করে ৩ মাসের মধ্যে পুনরায় পাটকল চালু করা হবে।
অথচ মিল বন্ধের আজ প্রায় দুই বছর (২৩ মাস) হতে চললেও খালিশপুর – দৌলতপুর জুটমিল সহ ৫ টি জুটমিলের প্রায় ১১ হাজার শ্রমিক এখনো পর্যন্ত তাদের মজুরি কমিশনের এরিয়ার টাকা হাতে পায়নি। বিজেএমসির অন্য ২০ টি মিলের বেশিরভাগ শ্রমিকদের এরিয়ার টাকা পরিশোধ করা হলেও এ ৫ টি মিলের শ্রমিকরা বুঝে পায়নি তাদের পাওনা টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫ টি পাটকলের মধ্যে ২৩ টি পাটকল এখনো বন্ধ পড়ে আছে। বাংলাদেশ জুটমিল ও কে এফডি জুটমিল নামে যে দুই টা মিল চালু হয়েছে তা নাম মাত্র এবং লিজ প্রক্রিয়ায়। যেখানে শ্রমিকদের দৈনিক হাজিরা ২৬০-২৮০ টাকা মাত্র। অবশিষ্ট মিলগুলোর মেশিনারি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় দিন দিন তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, শেষ বিচারে যার ক্ষতি হচ্ছে রাষ্ট্রের, তথা দেশের।শিল্প নগরী খুলনা আজ মৃতপ্রায়। খুলনা খালিশপুর অঞ্চলের সর্বশেষ শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকে ছিল এখানকার ৫ টি জুটমিল, যেখানে কাজ করত হাজার হাজার শ্রমিক। এই শিল্প প্রতিষ্ঠান কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল নানা মাতৃক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পাটকল বন্ধের পর সেই প্রতিষ্ঠান গুলোও আজ মরে বেঁচে আছে মাত্র।
খুলনা- যশোর সহ সারা দেশের যে সমস্ত এলাকায় এই পাটকল ছিল, তার প্রত্যেকটা এলাকার চিত্র একই। ফলে হাজার হাজার কর্মহারা শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, বন্ধ পাটকল ধ্বংসের হাত থেকে থেকে রক্ষা করে দেশের সম্পদ রক্ষা এবং খালিশপুর সহ দেশের প্রতিটি শিল্প এলাকা রক্ষার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে চালুর কোন বিকল্প নেই। অথচ সরকারের ৫ টি জুটমিলের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ ও রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে চালুর কোন উদ্যোগ নেই। গত দুই বছর যাবৎ খুলনা সহ সারা দেশের পাটকল এলাকায় আন্দোলন সংগ্রাম হলেও সরকার এ বিষয়ে কোন কর্ণপাত করছে না।
এহেন পরিস্থিতিতে সারা দেশের পাটকল শ্রমিকদের ঐক্য বদ্ধ করে ঢাকা কর্মসূচির বিকল্প নেই। তাই ৫ টি জুটমিল সহ সকল শ্রমিকের বকেয়া পাওনা পরিশোধ ও রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে চালুর দাবিতে আগামী ২০ জুন বাজেট অধিবেশন চলাকালীন সময়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরা শ্রমিক সমাবেশ করতে যাচ্ছি।
দাবি সমূহ-
১, ৫ টি জুটমিলের ( খালিশপুর জুটমিল, দৌলতপুর জুটমিল, জাতীয় জুটমিল, আর আর জুটমিল ও কে এফ ডি জুটমিল) এরিয়ার টাকা সহ সকল বকেয়া পাওনা অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।
২, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে অতিসত্বর চালু করে পর্যায়ক্রমে আধুনিকায়ন করতে হবে।
৩, নাম জটিলতায় ভুক্তভোগী স্থায়ী- বদলি শ্রমিকদের সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে হবে।
৪, সকল শ্রমিকের নামে মিথ্যা ও হয়রানি মূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
উক্ত কর্মসূচি সফল করতে আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।