ডেস্ক রিপোর্ট
২১ মে ২০২২, ৫:৫২ অপরাহ্ণ
সিলেট প্রতিনিধি:: সিলেট নগরীর প্লাবিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বাসদ (মার্কসবাদী)’র নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সুরমা নদী খনন করে নগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহবান জানান।
শনিবার বিকাল ৪ টায় বাসদ (মার্কসবাদী) সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা আহ্বায়ক কমরেড উজ্জ্বল রায়।
সঞ্জয় কান্ত দাস এর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কমরেড জহিরুল ইসলাম, জেলা শাখার সদস্য মোখলেছুর রহমান প্রমুখ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, গত কয়েকদিন একনাগাড়ে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুরমা নদী উপচে ইতিমধ্যে নগরীর উপশহর, চালিবন্দর,তোপখানা, কালীঘাট, ছড়ারপাড়,মেন্দিবাগ,তালতলা, তেররতন, জামতলা, মনিপুরী রাজবাড়ী সহ ২৫ টি এলাকা প্লাবিত হয়ে মানুষজন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাটের পাশাপাশি বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় জনদূর্ভোগ বেড়েছে। প্লাবিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট তৈরি হয়েছে দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষ খাদ্য সংকটে পড়েছে। সরকারি উদ্যোগের কথা জেলা প্রশাসন বারবার উল্লেখ করলেও বাস্তব চিত্র তা নয়।মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। প্লাবিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধ করন ট্যাবলেট ও দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষকে পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ করার জোর দাবি জানান। এছাড়া জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাকে বন্যাদূর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানান এ বছর কয়েকদফা বন্যায় এসকল উপজেলার ফসল নষ্ট হয়েছে রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে মানুষজন পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে নেতৃবৃন্দ পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ করার দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন নগরীর জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী অপরিকল্পিত নগরায়ন,নগরীর মাছু দীঘি, রামের দীঘি, লাল দীঘি, ধোপা দীঘি সহ অনেক বড় দীঘি ভরাট করে অট্টালিকা বানানো হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন পাড়ায় ছোট বড় পুকুর ভরাট করা হয়েছে। হাওর ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে ক্যান্টনমেন্ট,ছড়াগুলো দখল হয়েছে ফলে বৃষ্টির পানি ধারণ করার প্রাকৃতিক আয়োজন ধ্বংসের কারণে আজকের এই পরিস্থিতি। তাছাড়া নগরীর পানি নিষ্কাশিত হয়ে সুরমা নদীতে পড়ে অথচ দীর্ঘ বছর যাবৎ সুরমা ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদী পানি ধারণ করতে পারছে না।
বক্তারা দ্রুত তম সময়ে সুরমা নদী খনন করা,ছড়াগুলো দখল মুক্ত করা,যে সকল পুকুর এখনও রয়েছে সেগুলোকে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের জোর দাবি জানান এ ব্যাপারে সিলেটের সকল সচেতন বিবেকবান মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
তাছাড়া আজ নগরীর ১৩ নং ওয়ার্ডের খুলিয়াটুলায় ও ২৬ নং ওয়ার্ডের ভার্থখলায় শ্রমজীবী-দরদ্র পানিবন্দী পরিবারের মধ্যে চিড়া, চিনি, বিস্কুট, খাবার স্যালাইন ও পানি বিতরণ করা হয়।