ডেস্ক রিপোর্ট
১৫ মে ২০২২, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
আবু নাসের অনীক::
শ্রীলঙ্কায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট চলছে। ইতিমধ্যে সেখানে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীসভার অনেক সদস্য পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে। প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ে বর্তমান পার্লামেন্টে ইউএনপি’র একমাত্র প্রতিনিধি ইতিপূর্বে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত, ‘রেকর্ড লুজার’ হিসাবে আখ্যায়িত রনিল বিক্রমাসিংহেকে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের মাধ্যমে তাঁর গদি অক্ষত রাখার চেষ্টা করছেন। তাঁর প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ আন্দোলনকারীসহ বিভিন্ন মহল থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। যদিওবা যুক্তরাষ্ট্র-ভারত নিয়োগকৃত নতুন প্রধানমন্ত্রীর সাথে কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেছে।
শ্রীলঙ্কার বর্তমান পরিস্থিতিকে যারা বিশ্লেষন করছেন তাঁরা অধিকাংশই একে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে হয়েছে বলে অবহিত করছেন। অন্যদিকে আমাদের দেশেও শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন একটি অংশ। যারা এমনটি মনে করছেন তাদের এই মতামতকে খারিজ করছে অন্য একটি পক্ষ।
যারা খারিজ করছেন তাঁরা মূলত শ্রীলঙ্কার বর্তমান সংকটকে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সংকট হিসাবে চিহ্নিত করছেন। আমি মনে করি, রাজনৈতিক নৈরাশ্যবাদীতার কারণেই আজকের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যাকে বলা যেতে পারে রাজনৈতিক অর্থনীতি সংকট।
প্রধানত তিনটি অর্থনৈতিক ভুল পদক্ষেপের কারণে সংকট তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষন করা হচ্ছে। তারা ১৫% ভ্যাট কমিয়ে ৮% নির্ধারণ করে, নেশন বিল্ডিং ট্যাক্স এবং যত আয় তত কর ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে, অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রজেক্ট গ্রহণ। এর বাইরে আরো একটি বিষয়ের উল্লেখ করা হচ্ছে, সেটি হলো অর্গানিক কৃষিকে প্রধান করা। প্রশ্ন হচ্ছে বাস্তবতাকে অস্বীকার করে এধরনের সিদ্ধান্ত একটি সরকার কখন গ্রহণ করে?
জনতুষ্টিবাদী রাজনীতি’র প্রভাবে এমন সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণ করা হয়। কর্তৃত্ববাদী শাসকগোষ্ঠী যেনতেন প্রকারে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এমন কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তাতে সামগ্রীক অর্থনীতির ক্ষতি তাদের বিবেচনার মধ্যে থাকেনা। ‘উন্নয়ন’কে একটি অন্যতম শ্লোগান হিসাবে জনগণের সামনে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয়। সাময়িকভাবে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করলেও যা দীর্ঘ মেয়াদে সামষ্টিক অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়।
শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে ঠিক তেমনটিই ঘটেছে। ২০১৯ সালে দেশটি উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়। ২০২১ সালে পিপিপিতে শ্রীলঙ্কার মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ ছিলো ১৩ হাজার ৬২৮ ডলার, ২০১৬ সালের মধ্যে দারিদ্রের হার ৪.১% এ নেমে এসেছিলো। জিডিপি’র গ্রোথ এসে দাঁড়ায় ৯% হারে। দেশটি শতভাগ শিক্ষিতের দেশ হিসাবে পরিচিতি পায়। বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসাবে কিছুদিন আগেও শ্রীলঙ্কা পরিচিত ছিলো। আজকের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেটি হঠাৎ করে তৈরি হয়নি; ধারাবাহিকভাবেই সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশেও শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবার সম্ভাবনা রয়েছে এটাকে উড়িয়ে দেবার কোন সুযোগ নেই। সেই বিষয়টি উল্লেখ করবো আলোচনায়। উপরের উল্লেখিত উপাত্তের সাথে বাংলাদেশের অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায়। প্রথমতো, আলোচনায় আনতে চাই রাজনৈতিক কারণসমূহ। যেগুলি বিশ্লেষন করলে বরং এই আশঙ্কায় তৈরি হবে যে, বাংলাদেশের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী শ্রীলঙ্কার পথেই হাঁটছে।
গত ৭০ বছর ধরে কিছুটা বিরতি দিয়ে শ্রীলঙ্কা শাসন করছে দুটি পরিবার। একইরকমভাবে বাংলাদেশে গত ৫০ বছর ধরে শাসন করছে দুটি পরিবার। শ্রীলঙ্কায় যেমন গোষ্ঠীতন্ত্র চেপে বসেছে, বাংলাদেশেও একইরকমভাবে এই গোষ্ঠীতন্ত্র চেপে বসেছে। গোষ্ঠীতন্ত্রে গণতন্ত্রের পরিবর্তে পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এধরনের শাসন ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য শাসকগোষ্ঠীর জনগণের পরিবর্তে আমলাতন্ত্র, প্রশাসন এর উপর নির্ভরতা তৈরি হয়।
উন্নয়নের নামে বৈদেশিক ঋণ নিয়ে সেই সমস্ত মেগা প্রজেক্ট থেকে অবারিত লুটপাট চলতে থাকে। আর্থিক ও সামাজিক দিক বিবেচনায় না এনে রাজনৈতিক স্বার্থে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। যাতে দলীয় লোকজন এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হয়।
সীমাহীন লুটপাটকে কেন্দ্র করে যেকোন ধরনের জনবিক্ষোভ দমন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের কালাকানুন তৈরি করা হয়। এধরনের কালাকানুন যেমন শ্রীলঙ্কা তৈরি করেছে তেমনভাবে কিন্তু বাংলাদেশেও তৈরি হয়েছে, হচ্ছে। দুইটি দেশেই স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ সঙ্কুচিত করে আনা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ অন্য কিছু মন্ত্রীর পদত্যাগের আগ পর্যন্ত দেশটির সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে ২০ জনের অধিক ছিলো একই পরিবারের। আমাদের সরকারেও সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে একই পরিবারের ৫০ এর অধিক সদস্য রয়েছেন। সাংবিধানিকভাবে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট যেমন নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী একইরকমভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী!
শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের উৎসমুখ রাজনীতি। ক্ষমতাতন্ত্র-লুটপাটতন্ত্র জারি রাখার জন্য রাষ্ট্রের অধিকাংশ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে তারা অকার্যকর করে ফেলেছে। ঠিক যেমনভাবে আমাদের বর্তমান সরকার বিচার ব্যবস্থাসহ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করে ফেলেছে। সুশাসনের চুড়ান্ত মাত্রায় বিপর্যয় ঘটেছে।
উভয় সরকারই জনতুষ্টিবাদী রাজনীতির প্রভাবে পরিচালিত। জনতুষ্টিবাদী শাসকরা জনগণের ক্ষমতা, আইন, বিচার, গণমাধ্যম, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ করে। নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা বিভিন্ন কালাকানুন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে।
গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ভয়ভীতি, হামলা-মামলা, সরকারী বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে থাকে। এসবের কারণে সংবাদ মাধ্যমগুলো নিজেরাই সেন্সরশীপ আরোপ করে। গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় নির্বাহী ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করে দিয়ে একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়। উভয় শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে এই মিলগুলি খুজেঁ পাওয়া কী খুব দুস্কর!
এবার আসি, অর্থনৈতিক দিকে। প্রতিনিয়তো বাংলাদেশে মেগা প্রজেক্টের সংখ্যা বাড়ছে। এর প্রত্যেকটি ঋণ নির্ভর। ঋণ সরবরাহকারীরাই প্রকল্প প্রণয়ন করে দিচ্ছে। চলমান যে ১০ টি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে এর একটিও যথাসময়ে শেষ হয়নি। প্রত্যেকটির প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলশ্রুতিতে প্রকল্পের অর্থনৈতিক মূল্য কমে যাচ্ছে। শ্রীলঙ্কাতেও কিন্তু এমনটিই ঘটেছে ধারাবাহিকভাবে!
ইআরডি’র তথ্যমতে, ২০০৯-১০ অর্থ বছরে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের ঋণ বাবদ বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হয় ৮৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯১ কোটি ডলার। চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন শেষ হলে এই ঋণ পরিশোধের হার আরো অনেক বেড়ে যাবে। বাংলাদেশে বর্তমানে মাথাপিছু দেনার পরিমান ৪৩২ ডলার। এটাও মাথার মধ্যে নিতে হবে, জিএফআই এর প্রতিবেদন অনুসারে, প্রতিবছর গড়ে ৭৪ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা পাচার হচ্ছে! কী বুঝলেন?
২০০২-২০১১ পর্যন্ত দায়-দেনা বৃদ্ধির হার ছিলো ৪৪.১%। ২০১২-২০২১ সাল পর্যন্ত তা বেড়ে হয়েছে ৬৭%। এই যে হার বৃদ্ধির প্রবণতা এটি সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য খুবই এলার্মিং। শ্রীলঙ্কাতেও দায়-দেনা বৃদ্ধির হার এভাবেই বেড়েছে। অন্তমিলের জায়গা এটিই যে, সেখানকার এবং বাংলাদেশের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর শাসন ব্যবস্থা ও পদ্ধতি একইরকম।
শ্রীলঙ্কার যে রাজনৈতিক দল এখনো পর্যন্ত রাষ্ট্র ক্ষমতায় রয়েছে তারা দেশটিকে তাদের পৈত্রিক তালুক মনে করে থাকে। একইরকমভাবে আমাদের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলটিও এই দেশটিকে তাদের পৈত্রিক তালুক মনে করে! এসমস্ত কারণেই বাংলাদেশেও একই ধরনের বিপর্যস্ত পরিস্থিতি তৈরি হবার সম্ভাবনাকে ‘ফু’ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অনেকেই বলছেন, শ্রীলঙ্কার এই বিপর্যয়ের কারণ চীনের ঋণের ফাঁদ। গোতাবায়ে সরকার যদি না চাইতো তবে চীনের পক্ষে নিশ্চয় অযাচিতভাবে ঋণ দেওয়া সম্ভব ছিলোনা। জনগণকে ‘উন্নয়ন’ এর ঘোরে আটকে রাখার জন্য আর নিজেরা লুটপাট করার জন্যই তারা মেগা প্রকল্পগুলিকে কেন্দ্র করে চীনের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করেছে। কেউ কেউ বলছেন, শ্রীলঙ্কায় যে বিক্ষোভ সংঘটিত হচ্ছে তা ভারতের ইন্ধনে হচ্ছে।
দেশের অভ্যন্তরে যদি জনবিক্ষোভ সংঘটিত হবার মতো কোন বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি না হয় তবে হাজার চেষ্টা করেও বাইরে থেকে কোন ঘটনা তৈরি করা যায়না। রাজাপাক্ষে সরকারের লুটপাট-অপশাসন এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির সাধারণ ধর্মই হচ্ছে এধরনের দূর্বল পরিস্থিতি তৈরি হলে সেখানে সুযোগ গ্রহণ করা।
শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক অর্থনীতির সংকটকে কেন্দ্র করে যে বিক্ষোভ দানা বেধেছে এবং তার কারণে প্রধানমন্ত্রীসহ বেশকিছু মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি প্রেসিডেন্টও যদি পদত্যাগ করে তারপরেও সেখানে রাজনৈতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিশেষ কোন পরিবর্তন ঘটবেনা।
কারণ সেখানে জনগণের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তির অবস্থান খুবই দূর্বল।
শ্রীলঙ্কায় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতাদের পরিণতির প্রতি ইঙ্গিত করে যারা বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতাদের শিক্ষা গ্রহণের পরামর্শ প্রদান করছেন তারা আসলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। কারণ বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতি বেশ কয়েকবারই ঘটেছে। তারা সেখান থেকে নুন্যতম শিক্ষা গ্রহণ করেনি, বরং যে রাজনৈতিক শক্তিকে তারা হেনস্থা করেছে পরবর্তীতে তাদের সহযোগীতাতেই তারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় টিকে থেকেছে।
আর এই মুহুর্তে বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবারও কোন সম্ভাবনা নেই। কারণ শ্রীলঙ্কার ক্ষমতাসীনদের তুলনায় বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনরা অনেক বেশি ধূর্ত। তারা ক্ষমতাতন্ত্র-লুটপাটতন্ত্র-গুন্ডাতন্ত্রকে নিরঙ্কুশ ও স্থায়ী করার জন্য প্রক্রিয়াকে তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে দিয়েছে। যার কারণে এখানে মন্ত্রণালয়ের একজন গাড়ির ড্রাইভার বা একজন পিয়নের পক্ষে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে।
একদিকে জনগণের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তির অনুপস্থিতি অন্যদিকে শাসকগোষ্ঠীর এই প্রক্রিয়ার কারণে দেশের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে হরতাল আহ্বান করলেও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বলতে গেলে শূণ্যের কোঠায়! এতো টাকা পাচার হয়ে যাওয়া, বেকারত্ব, ক্রমান্বয়ে বৈষম্য বৃদ্ধি পাওয়া, মত প্রকাশের অধিকার সংকুচিত হওয়া, অধিকাংশ সম্পদ একটা ছোট গোষ্ঠীর হাতে কুক্ষিগত হলেও জনগণের মধ্যে কার্যকর কোন প্রতিক্রিয়া নেই। কেনো নেই সেটি পূর্বেই উল্লেখ করেছি।
তবে আজকে এই মুহুর্তে নেই মানে এই নয় যে, কখনওই প্রতিক্রিয়া তৈরি হবেনা। অবশ্যই হবে। তবে সেই সময়টিতে যদি জনগণের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তি সংগঠিত অবস্থায় না থাকে তবে শ্রীলঙ্কাতে জনবিক্ষোভ সংঘটিত হবার পরেও কিছু সংস্কারমূলক কাজ হলেও জনগণের উপর নির্যাতন-নিপীড়ন টিকে থাকবে এখানেও ঠিক সেটিই হবে।
জনগণের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তির বিকাশ ব্যতীত এই লুটেরা শাসকগোষ্ঠীর কাছ থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব; সেটি শ্রীলঙ্কার জনগণের জন্য যেমন একইরকমভাবে বাংলাদেশের জনগণের জন্যও সেটি প্রযোজ্য।