ডেস্ক রিপোর্ট
১৪ মে ২০২২, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরোধীতাসহ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের নানা বিভ্রান্তি ছড়ানোর দায়ে অভিযুক্ত প্রয়াত সাংবাদিক এ.জেড.এম. এনায়েতুল্লাহ খানের নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে বঙ্গবন্ধু তথা রাষ্ট্রদোহী অপরাধ করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে গঠিত এই ফান্ডের নাম দেয়া হয়েছিল ‘এনায়েতুল্লাহ খান স্মৃতি ট্রাস্ট ফান্ড’।
এনায়েতুল্লাহ্ খান বঙ্গবন্ধুর তীব্র সমালোচক ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর আমলে অনেক অপপ্রচার চালিয়েছেন। এনায়েতুল্লাহ্ খান বিভিন্ন সময়ে বঙ্গবন্ধুকে তিরস্কার করেছেন, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছেন। সাংবাদিকতার আড়ালে তিনি সবসময় বঙ্গবন্ধুকে ছোট করতে চেয়েছেন। তার সাপ্তাহিক হলিডে পত্রিকা এদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নানা বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে (পরবর্তীতে এ পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়)।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর এনায়েতুল্লাহ খান সম্পাদিত সাপ্তাহিক হলিডে পত্রিকায় নিয়াজ জামান কর্তৃক লেখা হয়েছিলোঃ ‘The majors killed the serpent and most of its eggs except the daughters who were abroad.’ (মেজররা সর্পটা এবং তার অধিকাংশ বাচ্চাকে হত্যা করেছে; বিদেশে অবস্থানরত কন্যারা ব্যতীত)। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে সেই সাংবাদিকের নামে স্বাধীনতার সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করার অপচেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক অশনি সংকেত বহন করে। সুতরাং এ ট্রাস্ট ফান্ড বাতিল করাই যথেষ্ট হবে না। এটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে করা হয়েছে। যারা এটা করেছে এবং এর সাথে যে বা যারা জড়িত তাদেরকে খুঁজে বের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এ ট্রাস্ট ফান্ড গঠনে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন একাডেমিক বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেবে।