ডেস্ক রিপোর্ট
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১:২৪ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পাকিস্তানে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে জনতা। দেশটিতে ব্লাসফেমির অভিযোগে হত্যার ঘটনায় এটি নতুন সংযোজন।
রবিবার দেশটির পাঞ্জাব প্রদেশের খানেওয়াল জেলায় এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, পবিত্র কোরআন শরীফের পাতা পোড়ানোর অভিযোগে ওই ব্যক্তিকে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা। হত্যায় জড়িত সন্দেহে এপর্যন্ত ৮০ জনকে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুলিশের কাছে আটক থাকা ওই ব্যক্তিকে ছিনিয়ে এনে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে পাঞ্জাব প্রদেশের খানেওয়াল জেলার জঙ্গল ডেরা গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, এ হত্যার ঘটনায় জড়িত ৮০ জনেরও বেশি মানুষকে শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকটি সংবাদ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, কুরআন পোড়ানোর অভিযোগ ওঠার পর ওই ব্যক্তি পুলিশ হেফাজতে ছিলেন। সেখান থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা করে ক্রুদ্ধ জনতা।
পুলিশ কর্মকর্তা মুনাওয়ার হোসেন জানান, কর্মকর্তারা গিয়ে ৪০ এর কোঠার ওই ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় একটি গাছে বাঁধা দেখতে পান।
“গ্রামবাসীরা লাঠিসোঁটা, কুড়াল ও লোহার রড দিয়ে তাকে পিটিয়ে মেরে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখে,” বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন হোসেন।
স্থানীয় একটি পুলিশ স্টেশনের প্রধান মুনাওয়ার গুজ্জর বার্তা সংস্থা এপিকে বলেছেন, “হতভাগ্য ওই ব্যক্তি গত ১৫ বছর ধরে মানসিক রোগে ভুগছিলেন।”
দু’মাস আগে গত বছর ডিসেম্বরে পাকিস্তানের শিয়ালকোটেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সেখানে শ্রীলঙ্কার এক প্রকৌশলীকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এমনকি তাকে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আবার একই ধরনের নৃশংস ঘটনার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তরফে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কেউ আইন হাতে তুলে নিলে বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ার করা হয়েছে।
তাছাড়া, হত্যাকাণ্ডের শিকার ওই ব্যক্তিকে বাঁচাতে ব্যর্থতার জন্য স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়েও প্রতিবেদন চেয়েছে সরকার।