ডেস্ক রিপোর্ট
৫ জানুয়ারি ২০২২, ২:৩৪ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের ৩৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সংগঠনের সকল নেতা-কর্মী-সমর্থক-শুভানুধ্যায়ী এবং নারী সমাজসহ দেশবাসীকে বিপ্লবী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সভাপতি রওশন আরা রুশো এবং সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসু। নেতৃবৃন্দ একইসাথে নারী নির্যাতন বন্ধ, নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন উচ্ছেদ, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারে দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আজ ৫ জানুয়ারি ২০২২ সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের ৩৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। সমাজে নারীর মৌলিক মানবিক অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শক্তিশালী করে শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৮৪ সালের ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর নারী সংগঠন হিসেবে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম মনে করে নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ছাড়া গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব না। একদিকে নারী-পুরুষের ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, অব্যাহত নারী-শিশু নির্যাতন অন্যদিকে দেশে ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে জনজীবনে নাভিশ^াস উঠছে। গণতন্ত্রহীনতায় বদ্ধ জলাশয়ে আবর্জনা জমার মতো সব সংকট যেমন বাড়ছে তেমন নারীর উপর নিপীড়নও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
তাই গণতন্ত্র ও সভ্যতার স্বার্থে, উন্নত রুচিবোধ ও সংস্কৃতি চেতনার আলোকে নারী-পুরুষের সৌন্দর্যমন্ডিত জীবন ও যৌথ কর্মপ্রয়াসের বিকল্প নেই। সমাজের অগ্রগতি ও প্রগতির স্বার্থে, সুস্থ নিরাপদ জীবনযাপন ও পরবর্তী প্রজন্মের মনুষত্ব নিয়ে বেড়ে উঠার স্বার্থে নারী-পুরুষের মধ্যকার অসাম্য-বৈষম্য বিলোপ আজ সময়ের দাবি। সেই দাবি পূরণের লক্ষ্যে সকল প্রকার অসুস্থ মানসিকতা, প্রতিক্রিয়াশীল ধ্যান-ধারণা, ভোগবাদী প্রবণতা দূর করার জন্য একটি শক্তিশালী নারী সংগঠন, নারী মুক্তি আন্দোলন ও নারী-পুরুষের মিলিতভাবে সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রাম বেগবান করা অপরিহার্য। শুধু অধিকারের কথা বলাই যথেষ্ট নয়; সমাজ সচেতনতার বিকাশ, প্রতিবাদ প্রতিরোধ সংগ্রামের পথেই সত্যিকারের মর্যাদা ও অধিকার আদায় সম্ভব। আমরা বিশ্বাস করি সমাজের আমূল পরিবর্তনের বিপ্লবী পথে সার্বিক মুক্তি একদিন অর্জিত হবে।
নেতৃবৃন্দ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামকে সর্বদিক থেকে সহযোগিতা দিয়ে ও অংশগ্রহণ করে শক্তিশালী করুন। দেশে নারী নির্যাতন, নারীর প্রতি বৈষম্যসহ সকল ক্ষেত্রে প্রতিরোধ গড়ে তুলে সমাজে ও পরিবারে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার জন্য নেতৃবৃন্দ সকলের প্রতি আহ্বান জানান।