ডেস্ক রিপোর্ট
২৯ ডিসেম্বর ২০২১, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
বগুড়া প্রতিনিধি:: হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ পুন:বিবেচনা করা এবং ব্যাটারি চালিত রিক্সা-ভ্যান ও ইজিবাইকের নিবন্ধন, রুট পারমিট-লাইসেন্স প্রদানসহ ৮ দফা দাবিতে-বগুড়ায় মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত।
আজ বুধবার, ২৯ ডিসেম্বর রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে সকাল ১১:০০টায় সাতমাথায় মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগ্রাম পরিষদের বগুড়ার সংগঠক রাফিউল আলম সুমন, সমাবেশ পরিচালনা করেন সংগ্রাম পরিষদের বগুড়ার সংগঠক, শ্রমিক নেতা মাসুদ পারভেজ। বক্তব্য রাখেন সংগ্রাম পরিষদের বগুড়ার সংগঠক অ্যাডভোকেট দিলরুবা নূরী, শ্রমিক নেতা এহেসানুল পান্না, আমিনুল হক রুকু, সুকুমার দাস, ইমতিয়াজ, মুকুল, মামুন, তসলিম, তাহসিন, আমিন উদ্দিন প্রমুখ।
দাবি গুলোর মধ্যে ছিল: হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ পুন:বিবেচনা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক উচ্ছেদ নয়, আধুনিকায়ন করা এবং বি.আর.টি.এ প্রস্তাবিত ‘থ্রী-হুইলার ও সমজাতীয় মোটরযানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা-২০২১’ দ্রুত চূড়ান্ত করে ব্যাটারি চালিত রিক্সা-ভ্যান ও ইজিবাইকের নিবন্ধন, রুট পারমিট-লাইসেন্স প্রদান করা।
শ্রমিক নেতা মাসুদ পারভেজ বলেন, সারাদেশের ৫০ লাখ পরিবার তথা প্রায় আড়াই কোটি মানুষ প্রত্যক্ষভাবে ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইকের উপর নির্ভরশীল। জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে কর্মসংস্থানের চেষ্টা করতে গিয়ে সারাদেশে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক যে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত তা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। এই ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে, ৪২ টি উপখাত সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে আড়াই কোটি মানুষ নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বগুড়াতেও এই ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। সারাদেশের ন্যায় বগুড়ার এই রিকশার সাথে প্রায় ০১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা যুক্ত। এই মানুষগুলো একদিকে অর্থনীতিতে অবদান, কর্মসংস্থান, দেশীয় শিল্পের বিকাশ অন্যদিকে দেশের সর্বত্র সাধারণ মানুষের অন্যতম বাহন হিসেবে ব্যাটারিচালিত বাহন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সমাবেশে অ্যাডভোকেট দিলরুবা নূরী বলেন, গত মার্চ ২১ মাসে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বি.আর.টিএ) এর উপপরিচালক (ইঞ্জি-১) মো: মাসুদ স্বাক্ষরিত চিঠি যার স্মারক নং: ৩৫.০৩.০০০০.০০৩.৩১.০০২.২১-৮৮৭ তারিখ ১৯.০৯.২০২১ আমাদেরকে জানানো হয় যে ইজিবাইকের কাঠামোর সর্বজনগ্রাহ্য এবং যাত্রী সুরক্ষা ব্যবস্থা সম্বলিত ডিজাইন/ড্রয়িং প্রণয়নের কাজ চলছে। পরবর্তীতে ৭.১১.২০২১ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এর বিআরটিএ সংস্থাপন শাখা ‘থ্রি হুইলার ও সমজাতীয় মোটরযানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা-২০২১’ এর খসড়া প্রণয়ন করে এবং এই খসড়ার উপর ১ মাস মতামত প্রেরণের সর্বসাধারণকে আহŸান জানান। সেই খসড়া নীতিমালায় কিছু নিয়ন্ত্রণ আরোপ সাপেক্ষে ব্যাটারি চালিত রিক্সা, ইজিবাইকসহ এ ধরনের যানবাহনের অনুমোদন দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। মন্ত্রণালয়ের সেই খসড়া নীতিমালার কিছু দিক সংশোধনের প্রস্তাবনা দিয়ে আমরা নীতিমালাকে স্বাগত জানিয়ে অবিলম্বে আমাদের সংশোধনসমূহ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের আহŸান জানিয়েছি। আমরা মনে করি এই নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে একদিকে যেমন এই পেশায় যুক্ত ৫০ লক্ষাধিক পরিবার অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে রক্ষা পাবে অপর দিকে সড়কেও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। কিন্তু একটি কুচক্রি মহল তাদের হীন স্বার্থে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এই ব্যাটারিচালিত যানবাহন বন্ধের চেষ্টা করে যাচ্ছে, যা কখনোই সম্ভব হবে না।
সভাপতির বক্তব্যে রাফিউল আলম সুমন বলেন, “ বাঘ ইকো মটরস দাবি করেছে ব্যাটারী চালিত এই সব যানবাহন পরিবেশ দূষণ করে, অবৈধ বিদ্যুতের ব্যবহার করে যা অযৌক্তিক দাবি। অথচ এই সব যানবাহন পরিবেশ দূষণ করে না, জ্বালানী অপচয় করে না, অল্প সময়ে এবং অল্প জায়গা ব্যবহার করে অধিক যাত্রী পরিবহণ করে থাকে। এক্ষেত্রে যতটুকু দুর্বলতা আছে তা সংস্কার করে আধুনিকায়নের জন্য প্রকৌশলী ও যানবাহন চলাচল বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করলে এই সব যানবাহনের আরও আধুনিকায়ন, ব্যয় সাশ্রয়ী এবং নিরাপদ করা সম্ভব হবে। একটি সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন করে এই সমস্ত যানবাহনকে লাইসেন্স প্রদান করা হলে রাষ্ট্র যেমন রাজস্ব পাবে তেমনি সড়কেও শৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব হবে। ”
সমাবেশে অন্যন্য নেতৃবৃন্দ, খসড়া প্রস্তাবনাতে ব্যাটারিচালিত রিক্সা-ভ্যান ও ইজিবাইককে যুক্ত করে ৫০ লাখ চালক-মালিক এবং তাদের উপর নির্ভরশীল আড়াই কোটি মানুষের কথা ভেবে একটি বিজ্ঞান সম্মত ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে অবিলম্বে সকল ব্যাটারিচালিত রিক্সা-ভ্যান ও ইজিবাইকের লাইসেন্স প্রদানের দাবি জানান।