ডেস্ক রিপোর্ট
২৬ এপ্রিল ২০২১, ৬:১০ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: চলতি বোরো মওসুমে কৃষকদের উৎপাদিত ধানের ন্যাযমুল্যের দাবী জানিয়ে সরকারি উদ্যোগে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ৭০ লক্ষ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করার দাবি জানিয়েছেন সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ।
আজ সোমবার, ২৬ এপ্রিল সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মনজুর আলম মিঠু এক যুক্ত বিবৃতিতে এই দাবি জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, দেশে করোনা পরিস্থিতিতে এক সংকটকাল চলছে। করোনা ভাইরাসের আক্রমন মোকাবেলায় সরকার ব্যার্থতার পরিচয় দিচ্ছে। প্রয়োজন ছিলো গরীব-নিম্নবিত্তদের লকডাউন চলাকালীন প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী সরকারি উদ্যোগে বিনামুল্যে নিশ্চিত করা এবং সারাবছর স্বল্পমূল্যে রেশন সরবরাহ করা। কিন্তু সরকার তা করছেনা। গতবছর করোনার শুরুতে লকডাউনে সময় লোক দেখানো নামমাত্র রিলিফ বিতরন করলেও এবছর কোন রিলিফই নেই। একদিকে মানুষকে ঘরে থাকার কথা বলছে, অন্যদিকে গার্মেন্টস সহ বিভিন্ন শিল্প-কারখানা চালু রেখেছে। সরকারের এইসব কার্যক্রম প্রমান করে যে,তারা শ্রমজীবিদের মানুষ মনে করেনা। করোনার কবল থেকে মানুষকে রক্ষা করতে হলে দ্রুত জেলা-উপজেলায় করোনা টেষ্ট ও প্রয়োজনীয় আয়োজনসহ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে।নেতৃবৃন্দ বলেন বর্তমানে দেশে শিল্প উৎপাদন ,ব্যাবসা-বানিজ্য প্রায় অচল। একই অবস্থা গোটা পৃথিবীর। ফলে মহামারী শেষে শুরু হবে মহামন্দা। ভয়ংকর এক দুর্ভিক্ষ অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য, নারী-শিশুরা সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এখান থেকে বাঁচার একমাত্র পথ কৃষিক্ষেত্রকে সর্বোচ্চ রাষ্টীয় গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা।বোরো মওসুমে দেশে ধান উৎপাদনের লক্ষমাত্রা প্রায় ৩ কোটি মেট্রিক টনেরও বেশি। অথচ সরকার ধান ক্রয়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করেছে মাত্র সারে ছয় লক্ষ মেট্রিক টন।এই সামান্য পরিমান ধান ক্রয়ের ঘোষনা কৃষকদের সাথে তামাসা। সেই ধান ক্রয়ের ক্ষেত্রেও নীতি-পদ্ধতীর জটিলতা এবং দুর্নীতির কারনে খোদ কৃষকরা এখান থেকে কোন সুবীধা পায় না। খোদ কৃষকরা এখানে ধান বিক্রি করতে পারেনা, ধান ক্রয়ের টাকা লুটপাট হয়। ফলে ক্রয় পদ্ধতি পরিবর্তন করে হাটে-হাটে ক্রয়কেন্দ্র খুলে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি মুক্ত হয়ে ধান ক্রয় করতে হবে। এক্ষেত্রে লটারি করে কাউকে বাদ দেওয়া যাবেনা।
নেতৃবৃন্দ বলেন করোনার প্রভাবে কর্মহীন শ্রমজীবি ও ক্ষুদ্র-মাঝারী আয়ের মানুষদের সারাবছর খাদ্যসামগ্রী স্বল্পমূল্যে রেশনে সরবরাহ করতে হবে। সেজন্য সরকারের পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ করা জরুরী। সেই জরুরী প্রয়েজন পুরন এবং কৃষকরা যাতে ধানের ন্যায্যমূল্য পায় সেজন্য এবছর বোরো মওসুমে সরকারকে উৎপাদনের এক তৃতীয়াংশ ন্যুনতম ৭০ লক্ষ মেট্রিক টন ধান সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করতে হবে। সরকারি খাদ্যগুদামে জায়গা নহলে প্রয়োজনে গুদাম ভারা করতে হবে অথবা কৃষকদের ঘরেই ধান রাখতে হবে টাকা পরিশোধ করে দিয়ে। তারা করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রায় সকল সরকারী বরাদ্দ লুটপাট হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেন।গার্মেন্টস সহ শিল্প-কারখানায় বরাদ্দকৃত টাকার সুবীধা শ্রমিকরা পাচ্ছে না, প্রায় পুরোটাই মালিকদের পকেটে চলে যাচ্ছে। কৃষি প্রণোদনার নামে বরাদ্দকৃত ৫ হাজার কোটি টাকা কৃষকদের কোন কাজে আসেনি। প্রণোদনার টাকাসহ যেকোন সরকারি বরাদ্দ লুটপাটের বিরুদ্ধে জনগণকে প্রতিরোধ আান্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান। আগামী বর্ষা মওসুমে বর্ষালী ধান যাতে কৃষকরা সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে উৎপাদন করে, সেক্ষেত্রে কৃষকদের সর্বোচ্চ সরকারি সহায়তা দিতে হবে। আমন মওসুমে বন্যায় অনেক সময় বীজতলা নষ্ট হয়, ফলে কৃষকরা বীজের অভাবে ধান লাগাতে পারেনা। সেজন্য আমন মওসুমে যাতে কৃষকদের বীজের ন্যুনতম সংকট দেখা না দেয়, সেজন্য কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগকে দিয়ে পর্যাপ্ত বীজতলা তৈরী করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ বি এ ডি সি র মাধ্যমে ডিলার নিয়োগ দিয়ে উৎপাদন খরচে কৃষকদের মাঝে সার-বীজ-কীটনাশক সরবরাহের দাবী করেন।