ডেস্ক রিপোর্ট
৫ অক্টোবর ২০২১, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২০ এর মাধ্যমে বিজ্ঞান শিক্ষা ও গণিত শিক্ষা সংকুচিত করার ও সাধারণ শিক্ষার ভেতরে কারিগরি শিক্ষাকে অনুপ্রবেশ ঘটানোর পায়তারা করা হচ্ছে মন্তব্য করে এই রূপরেখা বাতিলের দাবি বাকৃবিতে ছাত্র ফ্রন্টের ।
আজ মঙ্গলবার, ০৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের জব্বারের মোড়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বাকৃবি শাখা মানববন্ধন থেকে এই দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ বলেন, একজন শিক্ষার্থী যাতে একটা নির্দিষ্ট স্তর পর্যন্ত সামগ্রিকতায় জ্ঞান লাভ করে, সেই কথা বলে পূর্বে যেভাবে ৯ম শ্রেণীতেই বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা এই ৩ বিভাগে ভাগ হয়ে যেত, এখন এটা চলে যাচ্ছে উচ্চমাধ্যমিক থেকে। পূর্বে শিক্ষার্থীরা পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান ৩ টি বিষয়ে মাধ্যমিকে ৩০০ ও উচ্চমাধ্যমিকে ৬০০ নম্বরের জন্য পড়তো। এখন ৩ টি বিষয়কে এক করে দিয়ে তার সাথে প্রযুক্তিও যুক্ত করে ১০০ নম্বর করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যাচ্ছে এতে বিজ্ঞান শিক্ষার পরিসর কমে এক তৃতীয়াংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। কম বিজ্ঞান পড়ে মাধ্যমিক শেষ করে খুবই দূর্বল বেইজ নিয়ে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী শ্রেণিগুলো তে যাবে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় গুলো থেকেও কোনো মানসম্মত গ্রাজুয়েট বের হবে না।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বিজ্ঞান শিক্ষা কে এই উদ্দেশ্য প্রণদিত ভাবে কমিয়ে দেওয়ার ফলে আমাদের ছাত্র দের মধ্যে থেকে কোনো গবেষক তৈরি হবে না , কোনো সৃজনশীল, বিজ্ঞান মনষ্ক মানুষ তৈরি হবে না ফলে আমরা জাতিগত ভাবে অনেক বেশি পশ্চাদ পদ হয়ে পড়বো। তাছাড়া এই শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীর দক্ষতা মূল্যায়নের জন্য বেশির ভাগ মার্কস যেহেতু শিক্ষকের হতে সেহেতু সঠিক মূল্যায়ন নিয়েও নেত্রবৃন্দ সঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাছাড়া শিক্ষার্থী দের মূল্যায়নের কথা বলা হলেও শিক্ষক দের মান কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে তার কোনো স্বচ্ছ পরিকল্পনা এই কারিকুলাম এ দেখা যায় নি।
পরিশেষে নেতৃবৃন্দ বলেন, “এই কারিকুলাম প্রণয়ণ করা হয়েছে অগণতান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিকভাবে যাতে এই শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে কিছু অনুগত দাস তৈরি করা যায়।
নেতৃবৃন্দ ছাত্র ও শিক্ষা স্বার্থ বিরোধী এই শিক্ষা কারিকুলাম প্রনয়ণের সিদ্ধান্ত বাতিল করে ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগী মানুষের প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে সর্বজনীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, সেক্যুলার, একই পদ্ধতির গণতান্ত্রিক শিক্ষানীতি ও কারিকুলাম প্রণয়নের জোর দাবী জানান।