ডেস্ক রিপোর্ট
২১ এপ্রিল ২০২১, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: বাঁশখালীর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক হত্যাকারীদের গ্রেফতার-বিচার-দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে এক জীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রদান, আহতদের সুচিকিৎসা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং শ্রম আইনের কর্ম ঘণ্টা ও ওভারটাইম সম্পর্কিত ধারাসমূহ স্থগিতের সরকারি প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
আজ বুধবার (২১ এপ্রিল ২০২১) গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের উদ্যোগে সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত।
গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমেনা আক্তারের সভাপতিত্বে ও গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের কার্যকরী সভাপতি শামীম ইমাম, বাংলাদেশের সোয়েটার গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এএএম ফয়েজ হোসেন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার, গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মাসুদ রেজা, বাংলাদেশ ওএসকে গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সহসভাপতি মাহবুব আলম মানিক, গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সংগঠক বিপ্লব ভট্টাচার্য, বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সংগঠক মঞ্জুর মোরশেদ প্রমুখ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, “বাঁশখালীর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিকরা তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও রোজার মাসে শ্রম ঘণ্টা কমানোসহ বিভিন্ন দাবি তুলেছিল। অথচ যখন তাদের ন্যায্য ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলছিল, তখন নির্বিচারে পুলিশের গুলিতে ৫ জন শ্রমিককে হত্যা, অসংখ্য শ্রমিককে আহত করা কোনোভাবেই জনগণ মেনে নেবে না। পরবর্তীতে আরও ১ জন শ্রমিক মারা গেছে, আহত অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। আমরা অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মালিক, পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। নিহত শ্রমিকদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য এক জীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ, আহতদের সুচিকিৎসা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনরত শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।”
বক্তারা আরও বলেন, “সরকার শ্রমজীবী-গরিব মানুষের জন্য খাদ্য, রেশন, নগদ অর্থ, চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে হঠাৎ লকডাউন ঘোষণা করল। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, মার্কেট, গণপরিবহন ইত্যাদি বন্ধ করা হলো। অথচ শ্রমিকদের জীবনের সুরক্ষার কথা বিবেচনা না করে মালিকশ্রেণির স্বার্থে শিল্প-কারখানা খোলা রাখা হয়েছে। এর পরে শ্রম আইনের কর্ম ঘণ্টা ও ওভারটাইম সংক্রান্ত ১০০, ১০২, ১০৫ ধারা স্থগিত করে শ্রমিকদেরকে নির্মম শোষণের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হলো। এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। এতে মালিকপক্ষ তাদের ইচ্ছামতো শ্রমিকদেরকে বেশি শ্রম প্রদানে বাধ্য করবে এবং অল্প সময়ে অধিক উৎপাদনে শ্রমিকদের উপর চাপ প্রয়োগ করবে। পাশাপাশি শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনাও বাড়তে থাকবে। তাই আমরা শ্রমিকস্বার্থবিরোধী এই প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে বাতিল করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।