ডেস্ক রিপোর্ট
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগে ১২ জন শিক্ষার্থীকে জোর করে চুল কেটে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় চেয়ারম্যান ও সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিনের অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।
আজ বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১১:৩০ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে এই বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন তারা।
সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক রুখসানা আফরোজ আশা’র সভাপতিত্বে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজীব কান্তি রায়-এর সঞ্চালনায় এই সমাবেশে ভক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক মুক্তা বাড়ৈ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শোভন রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুস্মিতা মরিয়ম, ঢাকা নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অনিক কুমার দাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সুহাইল আহমেদ শুভ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, এরকম একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপ্রত্যাশিত। সেই শিক্ষক এরপরদিন পরিক্ষার হলে শিক্ষার্থীদেরকে হুমকি-ধামকি দেন। এতে আতঙ্কিত ও অবসাদগ্রস্থ হয়ে একজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা করে এখন হাসপাতালে ভর্তি আছে। এই ঘটনা অত্যান্ত বর্বর এবং ঘৃণ্য। বিগত ৩ বছর ধরেই তিনি শিক্ষার্থীদেরকে এরকম হেনস্তা করে আসছেন, এরকম অভিযোগ আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মত গণতান্ত্রিক ও মুক্তচিন্তার জায়গায় এরকম বর্বর ও ঘৃণ্য মানসিকতার শিক্ষকের কোন স্থান নেই। বিশ্ববিদ্যালয় মুক্ত চিন্তার স্থান, এটা সেনাবাহিনীর ক্যান্টনমেন্ট নয়, শিক্ষকরা সেনা কর্মকর্তা নন।
সভাপতির বক্তব্যে রুখসানা আফরোজ আশা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ন্যুনতম গণতান্ত্রিক পরিবেশ অবশিষ্ট নেই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ব্যক্তিত্বহীন, পদলেহনকারী স্বৈরাচারী মনোভাবাপন্ন মানুষেরা এখন শিক্ষকের কাতারে। শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি, দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি, শিক্ষক মুল্যায়ন পদ্ধতি না থাকা, এইসমস্ত কারণে আজ শিক্ষকেরা এরকম দলীয় মাস্তান ও সেনা কর্মকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। আমরা শিক্ষক নামধারী এইরকম নিচু মানসিকতার সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন-এর অপসারণ ও শাস্তি দাবি করছি। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা এই দাবিতে যৌক্তিক আন্দোলনে নেমেছে। ভয়-ভীতি, হুমকি-ধামকি, ক্ষমতার চোখ রাঙানীকে উপেক্ষা করে তাদের এই ভূমিকাকে আমরা অভিনন্দন জানাই ও তাদের সাথে সংহতি জানাই।