ডেস্ক রিপোর্ট
১৯ এপ্রিল ২০২১, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পুলিশের গুলিতে পাঁচজন শ্রমিক নিহত এবং শতাধিক শ্রমিক আহতের ঘটনার প্রতিবাদে বিটাক বাজার মোড়ে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন পাহাড়তলী থানা সংসদ।
আজ সোমবার বিকালে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ছাত্র ইউনিয়ন পাহাড়তলী থানার সভাপতি ড্যানি বিশ্বাস এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ছাত্র ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার সহকারী সাধারণ সম্পাদক খালিদ মিরাজ,পাহাড়তলী থানার সহকারী সাধারণ সম্পাদক বর্ষা দেবী, কোষাধ্যক্ষ অভিনাশ রায়। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন পাহাড়তলী থানা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নিশান রায়৷ সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন হালিশহর থানা ছাত্র ইউনিয়নের যুগ্ম আহবায়ক তানভীর ইলাহী প্রমুখ।
এসময় ছাত্র ইউনিয়ন নেতারা বলেন, গত শনিবার বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নের পূর্ব বড়ঘোনা এলাকায় নির্মাণাধীন ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিকরা বকেয়া বেতন পরিশোধসহ ১২দফা দাবিতে বিক্ষোভ করে।ফলে মালিকপক্ষ কয়েকজন শ্রমিক প্রতিনিধির সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের আলোচনাকে গুরুত্ব না দিয়ে বরং তাদের আটকিয়ে রাখে।এর ফলে শ্রমিকরা আরো উত্তেজিৎ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে মালিকপক্ষ পুলিশ ডেকে নিয়ে আসে এবং পুলিশের সাথে শ্রমিকের সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশের গুলিতে অন্তত পাঁচ শ্রমিক নিহত এবং অর্ধশতাধিক আহত হয়। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ এবং দ্রুত তদন্ত করে এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। পাশাপাশি নিহত শ্রমিকদের আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ ও আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার সব ভার বহন করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
বক্তারা আরো বলেন,বাংলাদেশের সংবিধান ও আইন অনুসারে পুলিশ কোনো অবস্থাতেই নিরীহ শ্রমিকদের উপর গুলি চালানোর অনুমতি পেতে পারে না।
বাঁশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে এর আগে ২০১৬ ও ২০১৭ সালেও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং সেসব ঘটনায় কমপক্ষে ৬ জন নিহত ও শতাধিক আহত হলেও ওই হত্যাকাণ্ডের কোন সুষ্ঠু বিচার হয়নি বরং তাদেরকে বিভিন্ন সময় হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয় যার উদাহারণস্বরূপ আমরা দেখতে পায় এবারের ঘটনার পরেও পুলিশ ও মালিক পক্ষ মিলে প্রায় দেড় হাজার শ্রমিকের নামে সেখানে অজ্ঞাতনামা মামলা করে।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে বক্তারা বলেন,বর্তমান সরকার উন্নয়নের নামে সারাদেশে এক লুটপাটের বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে। জনগনের ওপর চাপিয়ে দেয়া এই তথাকথিত উন্নয়নে দেশের সাধারণ জনগণের কোন স্বার্থরক্ষা তো হচ্ছেই না বরং লুটেরা শ্রেণির স্বার্থ রক্ষাই প্রাধান্য পাচ্ছে। যার কারণে এসব কর্পোরেট মালিকগুলো ইচ্ছেমত তাদের কাজ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।মাথার ঘাম পায়ে ফেলে গোটা দেশের অর্থনীতিকে যারা টিকিয়ে রেখেছেন তাদের উপর গুলি চালানোর পরিণাম সুখোকর হবে না।দ্রুত এ শ্রমিকদের নামে সব মামলা প্রত্যাহার করে তাদের সব দাবি মেনে নিতে হবে না হলে সাধারণ জনগণই অতীতের মত স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটাবে।