ডেস্ক রিপোর্ট
১৬ আগস্ট ২০২১, ১১:২১ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যকে ‘অরাজনৈতিক ও শিষ্টাচারবিবর্জিত’ বলে বর্ণনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওবায়দুল কাদেরের ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়া এ দেশের গণতন্ত্রের একটা অবিচ্ছেদ্য নাম, গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে তার সংগ্রাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। আজও তিনি সেই সংগ্রামই করে চলেছেন। তাকে নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য শুধু অরাজনৈতিকই নয়, রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত।
সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়ার ৭৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার আরোগ্য, দীর্ঘায়ু, মুক্তি এবং সারাদেশে করোনাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এই আয়োজন করা হয়। দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হয়।
‘১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে ভুয়া জন্মদিন পালন করে খালেদা জিয়া জাতির সঙ্গে প্রতি বছর তামাশা করেন’- গত শনিবার এক আলোচনা সভায় ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্যের জবাবে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ান-ইলেভেনের অবৈধ সরকারের আমলে দায়ের করা একটা মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে শুধু জনগণ থেকে দূরে রাখার জন্য, রাজনীতি থেকে দূরে রাখার জন্য তাকে অন্তরীণ করে রেখেছে। এই ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ব্যর্থ হবে। খালেদা জিয়া আবার জনগণকে নিয়ে এই দানবীয় শক্তিকে পরাজিত করতে নেতৃত্ব দেবেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার ইতিহাসকে বিকৃত করার জন্য এবং জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত অপমানজনক কথা বলছে। এসব কথা বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে, ইতিহাসকে বিকৃত করা এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করা। তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতায় এসেছিল আওয়ামী লীগ। তাদেরই নেতা খন্দকার মোশতাক আহমদ সেদিন ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের রক্তের ওপর দিয়ে হেঁটে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়েই নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছিল। তখনকার সেনাপ্রধানকে তারা পরবর্তী সময়ে এমপি বানিয়েছে এবং সেই সময়ের যারা কুশীলব ছিলেন, তাদের প্রত্যেককেই তারা এখন মর্যাদার সঙ্গে তাদের সরকারে অবস্থান দিয়েছেন।
গণটিকাদান কর্মসূচি নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার করোনা মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং টিকা সংগ্রহ করতে গিয়ে দুর্নীতি করেছে। তারা গণটিকা দেওয়ার নামে জনগণের সামনে আরেকটি তামাশা উপস্থিত করেছে। এর আগে অপরিকল্পিত লকডাউনের নামে বিরোধী দলের ওপর ক্র্যাকডাউন করেছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীর সঞ্চালনায় দোয়া মাহফিলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান ও আবদুস সালাম বক্তব্য দেন। এ ছাড়া বিএনপির হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা এমন এক রাষ্ট্রে বসবাস করছি, যেখানে কোনো নাগরিকেরই জানমালের নিরাপত্তা নেই। দেশবাসী সবসময় ভয় ও আতঙ্ক নিয়ে দিনাতিপাত করছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জানিবুল ইসলাম জোসি এবং শিবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুর রহমান নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে তিনি এ বিবৃতি দেন। গত শনিবার রাত থেকে তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না এবং তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।