ডেস্ক রিপোর্ট
১৬ আগস্ট ২০২১, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:: বাসদ নেতা ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ এর নামে দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং বাসদ সদর উপজেলা শ্রমিক নেতৃবৃন্দের উপর হামলা ও অফিস ভাংচুরকারী চাঁদাবাজ ঝুটসন্ত্রাসী সুমন, জুয়ারি জাহাঙ্গীরসহ সকল সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফতুল্লা বাসদের প্রতিবাদী মানববন্ধন।
আজ সোমবার (১৬ আগস্ট ২০২১) বাসদ ফতুল্লা থানা শাখার উদ্যোগে বিকার ৫টায় ফতুল্লার শিবু মার্কেটে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বাসদ ফতুল্লা থানার সমন্বয়ক এম এ মিল্টনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাসদ পাগলা আঞ্চলিক শাখার সমন্বয়ক এস এম কাদির, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি জামাল হোসেন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট ফতুল্লা থানার সভাপতি আশেকে রাসুল শাওন, জেলার সহ-সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সোহাগ, বিসিক শাখার সভাপতি নূর হোসেন, বাসদ নেতা আনোয়ার হোসেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ফতুল্লা থানার আহ্বায়ক ফয়সাল আহম্মেদ রাতুল।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ৮ আগস্ট সন্ধ্যায় মাসদাইর চৌধুরী কমপ্লেক্স এলাকায় অবস্থিত বাসদ সদর উপজেলা কার্যালয়ে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভা চলাকালে চাঁদাবাজ ঝুটসন্ত্রাসী সুমন, জুয়ারি জাহাঙ্গীরে নেতৃত্বে ৩০/৩৫ জন সন্ত্রাসী হামলা চালায়। নেতাকর্মীদের মারধর করে ও অফিসের আসবাবপত্র ভাংচুর করে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ঝুটসন্ত্রাসী সুমন ও জুয়ারী জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা অফিসে প্রবেশ করে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার
সাধারণ সম্পাদক ও গাবতলী পুলিশ লাইন শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম শরীফের কাছে ৭ লাখ টাকা ও জুয়ারি জাহাঙ্গীর ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা না দিলে শরীফকে হত্যা করবে এবং অফিস উচ্ছেদ করবে বলে হুমকি দেয়। শরীফ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সন্ত্রাসীরা শরীফসহ উপস্থিত নেতা কর্মীদের উপর হামলা চালায় এবং এলোপাথারী মারধর করে ও অফিসের ভিতরে ভাংচুর চালায়। এতে মারাত্মক আহত হয় রিকশা, ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক মেহেদী হাসান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ঝুটসন্ত্রাসী সুমন ও জুয়ারি জাহাঙ্গীর বিএনপি-জামাতের শাসনামলে মাসদাইর-গাবতলী এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ছিল। সুমনের নামে বহু সন্ত্রাসী মামলা আছে, বিভিন্ন মামলায় জেল খেটেছে এবং এলাকায় মাদকের সাথে যুক্ত। জাহাঙ্গীর ইন্টারনেট জুয়ারি চক্রের সাথে জড়িত এবং চাঁদাবাজিসহ এলাকায় নানা অপকর্মের সাথে যুক্ত। সুমন ও জাহাঙ্গীর বর্তমানে মুখোশ বদল করে চাঁদাবাজিসহ তাদের অপকর্ম অব্যাহত রেখেছে ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রশাসনের নির্বিকার ভুমিকার কারণেই এসব সন্ত্রাসীরা আজ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বাসদ অফিসে হামলার পর মামলা হলেও অদৃশ্য কারণে পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার করেনি। সন্ত্রাসী সুমন ও জাহাঙ্গীর প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আমাদের সংগঠনের কর্মীদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। পুলিশের নির্বিকার ভূমিকার সুযোগ নিয়ে সুমন ও জাহাঙ্গীর পৃথকভাবে সমাজাতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নেতা আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফের নামে কোর্টে ষড়যন্তমূলকভাবে ২টি পৃথক মিথ্যা মামলা দিয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বাসদ নেতাদের নামে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার ও বাসদ অফিসে হামলাকারী সুমন ও জাহাঙ্গীরসহ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও শাস্তি দাবি করেন।