ডেস্ক রিপোর্ট

১০ এপ্রিল ২০২৬, ২:২৯ পূর্বাহ্ণ

সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের আত্মপ্রকাশ

আপডেট টাইম : এপ্রিল ১০, ২০২৬ ২:২৯ পূর্বাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: ঢাকায় সিপিবি অফিসের মৈত্রী মিলনায়তনে আজ অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ১৩টি বামপন্থী, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ‘সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট’-এর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে। আত্মপ্রকাশ ও কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের লিখিত বক্তব্য পাঠ ও আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (ART)’ একটি অসম, একতরফা ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি, যা বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুকিতে ফেলবে। চুক্তির বিভিন্ন ধারায় বাংলাদেশের ওপর শুল্ক ও শুল্ক-বহির্ভূত বাধ্যবাধকতা আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের একক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

বক্তব্যে আরও বলা হয়, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি, খাদ্যশস্য, কৃষিপণ্য ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিতে বাধ্য করা হবে, একই সঙ্গে দেশীয় শিল্প ও কৃষি খাত মারাত্মক প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে এবং বিপুল কর্মসংস্থান হুমকির সম্মুখীন হবে। এছাড়া অন্যান্য দেশের সাথে স্বাধীনভাবে বাণিজ্য চুক্তি করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপের মাধ্যমে দেশের নীতিনির্ধারণী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, অন্তর্বর্তী সরকার তার এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে নির্বাচনের প্রাক্কালে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থী। এমনকি সংবিধানের ১৪৫(ক) অনুচ্ছেদের পরিপন্হী।

বক্তব্যে একই সঙ্গে ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলা, ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যা এবং বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সমন্বয়ক কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, বাংলাদেশ জাসদের স্হায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা, বাসদ (মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক কমরেড হারুনুর রশীদ ভূইয়া, গণমুক্তি ইউনিয়নের আহ্বায়ক কমরেড নাসিরউদ্দীন নাসু, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক কমরেড রজত হুদা, বাংলাদেশের সোশ্যালিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড শহীদুল ইসলাম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

শেয়ার করুন