ডেস্ক রিপোর্ট
১৬ নভেম্বর ২০২৫, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: লালদিয়াসহ চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার জাতীয় স্বার্থবিরোধী তৎপরতার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাম জোটের সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত
লালদিয়াসহ চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার জাতীয় স্বাথীবিরোধী তৎপরতার প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোটের উদ্যোগে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক কমরেড রাজেকুজ্জামান রতনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র সভাপতি কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য কমরেড অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশরেফা মিশু ও বাসদ (মার্কসবাদী)-র সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা।
সমাবেশ পরিচালনা করেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য কমরেড নিখিল দাস। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে হাইকোট মোড় ঘুরে তোপখানা রোড হয়ে পুরানা পল্টনে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, জনমত উপেক্ষা করে ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব দিচ্ছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ৪৫ বছরের এই চুক্তিতে মাত্র ৬০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে এবং বছরে ৮ লাখ কন্টেইনার উঠানো-নামানো করবে। এছাড়া কেরানীগঞ্জে অবস্থিত চট্টগ্রাম বন্দরের পানগাঁও নৌ টার্মিনালটি ২২ বছরের জন্য পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে সুইজারল্যান্ডের মেডিটেরানিয়ান শিপিং কোম্পানি মেডলগ এস প্রতিষ্ঠানকে। অথচ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও আভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ২০১৩ সালে ১৫৬ কোটি টাকায় এই টার্মিনাল গড়ে তোলে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই দুটি কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিদের হাতে তুলে দেওয়ার চুক্তিটি সম্পন্ন করবেন আগামীকাল ১৭ নভেম্বর ২০২৫। মূল্যায়ন কমিটিকে পাশ কাটিয়ে প্রয়োজনীয় বোর্ড সদস্য ছাড়াই অনুমোদন নিয়ে সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ৭ ও ৮ নভেম্বর ২০২৫ সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চুক্তির নেগোসিয়েশন ও চূড়ান্ত দলিল কাজ সম্পন্ন করে অন্তর্বর্তী সরকার।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বিদেশি হাতে বন্দর ইজারা দেওয়ার এখতিয়ার নেই। তার উচিত একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে যাওয়া। দেশের স্বার্থ বিপন্ন করে বিগত সরকার মেগা প্রকল্প প্রণয়ন করেছিল যার খেসারত দিতে হচ্ছে জনগণকে। অভ্যুত্থান পরবর্তী বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিতায় দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি করে দেশকে একটি সর্বনাশের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রামের শ্রমিক-কর্মচারীসহ সর্বস্তরের জনগণ এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। বাম জোটসহ দেশপ্রেমিক জনগণ এর বিরুদ্ধে রোডমার্চসহ নানামুখী কর্মসূচি পালন করেছে। তারপরও সরকারের টনক নড়ছে না।
সরকারের এই গণবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরদ্ধে রাজপথে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।