ডেস্ক রিপোর্ট
১২ আগস্ট ২০২৫, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: ঐকমত্য কমশিনে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সরাসরি নির্বাচনরে সদ্ধিান্ত না হওয়ার প্রতবিাদে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর উদ্যোগে আজ ১২ আগস্ট ২০২৫ বিকেল ৫ টায় প্রেসক্লাবের সামনে বক্ষিোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রকৌশলী শম্পা বসু।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর কেন্দ্রীয় কমটিরি সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শিপ্রা মন্ডল, সদস্য ইসরাত জাহান লিপি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ। সমাবশে পরচিালন্ াকরনে সমাজতান্ত্রকি মহলিা ফোরাম ঢাকা নগরের সাধারণ সম্পাদক রুখশানা আফরোজ আশা
র্বতমানে সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত আসন আছ,ে যা দলীয় আসনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষে বিদ্যমান পদ্ধতিই বহাল রেখে প্রতি ৫ বছর অন্তর ৫% করে সাধারণ আসনে দলগুলোকে বাধ্যতামূলক নারীদের মনোনয়ন দিতে হবে মর্মে সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, সমতাভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ইস্যুতে নারী সমাজের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবিকে গুরুত্ব না দিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এ রকম পশ্চাৎপদ সিদ্ধান্ত হতাশাজনক। আমাদের দল বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদসহ কয়েকটি বামপন্থী দল এ সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি দেশ ও জাতি নারী ও পুরুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও ভূমিকায় এগিয়ে যায়। আমাদের দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও পরিবারে নারীর ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে, রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বা জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ খুবই নগন্য। এর বড় কারণ বাংলাদেশে এ যাবতকালে যারা বা যেসব দল রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে তারা পুঁজিবাদী মানসিকতায় ও পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা পরিচালিত। ফলে শাসকগোষ্ঠী নারীর সমান অধিকার স্বীকার করেনি।
নেতৃবৃন্দ বলেন, নারীর রাজনীতিতে অংশগ্রহণ, জাতীয় সংসদে তার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য এক্ষেত্রে নারীর সামনে বাধাগুলোকে দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। সংসদে নারী থেকে গেছেন অনেকটা ‘শোপিস’ বা ‘অলঙ্কার’ হিসেবে। আমাদের দেশের নির্বাচনে কালো টাকা, পেশিশক্তি একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। ফলে ক্ষমতা কেন্দ্রিক দলগুলো নারীদেরকে সরাসরি নির্বাচনে নমিনেশন দিতে চায় না। নারী নির্যাতন, সহিংসতা, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ নারীর রাজনীতিতে অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করে। এমন একটি পরিস্থিতিতে সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়নকে ত্বরান্বিত করতে পারতো। কিন্তু জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সংরক্ষিত নারী আসনে পূর্বের ন্যায় ক্ষমতাসীন দলের দয়া দাক্ষিণ্য দ্বারা নারী সাংসদদের মনোনয়নের পদ্ধতিই বহাল রাখলো। এই ক্ষেত্রে নারী সাংসদের কোন নির্বাচনী এলাকা থাকবে না। ফলে নারীদের জনগণের মধ্য থেকে রাজনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে উঠে আসা কঠিন হয়ে পড়বে।
সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘ ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ ও সাহসী বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ‘নতুন বন্দোবস্ত’ এর কথা বলে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আশ্বাস দিয়ে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বকে ‘শোপিস’ করে রাখার সেই পুরনো পদ্ধতি বহাল রেখে নারীদের প্রতি চরম অবিচার ও অপমান করা হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে পশ্চাদপদ সিদ্ধান্ত বাতিল করে সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা ১০০তে উন্নীত করে সরাসরি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানান। রাষ্ট্র পরিচালনায় নীতি নির্ধারণে নারীর ন্যায্য হিস্যাও অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানান।
নারী সংগঠন এবং নারী অধিকার কর্মীদের যুক্ত করে পুনরায় বৈঠক এবং প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। একই সাথে কমিশনের অগণতান্ত্রিক পশ্চাদপদ পুরুষতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং সংরক্ষিত নারী আসন বৃদ্ধি, সরাসরি নির্বাচনসহ নারীর সমানাধিকারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ নারী আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সকল প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক নারী পুরুষের প্রতি আহ্বান জানান।