ডেস্ক রিপোর্ট

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

নিম্নতম মজুরি ও শ্রমআইন বাস্তবায়নের দাবি স’মিল শ্রমিক ফেডারেশনের

আপডেট টাইম : ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৪ ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: স’মিল শিল্প সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি এবং নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদান ও ৮ ঘন্টা কর্মদিবস নির্ধারণসহ অবিলম্বে শ্রমআইন বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ স’মিল শ্রমিক ফেডারেশন (রেজিঃ নং বি-২২০০)।

১৬ ফেব্রয়ারি’২৪ শুক্রবার সুরমা মার্কেটস্থ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের কার্যালয়ে দিনব্যাপী বিভাগীয় প্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের সভাপতি মো. খলিলুর রহমান।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাসের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটির সভাপতি সুরুজ আলী।

সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রমজান আলী পটু, বাংলাদেশ স’মিল শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আইয়ুবুর রহমান, সিলেট জেলা স’মিল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা স’মিল শ্রমিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা স’মিল শ্রমিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, সিলেট সদর উপজেলা স’মিল শ্রমিক সংঘের সভাপতি হজর আলী, বড়লেখা উপজেলা স’মিল শ্রমিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহীম, নবীগঞ্জ উপজেলা স’মিল শ্রমিক সংঘের সহ-সাধারণ সম্পাদক সাফাত আলী, ফেঞ্চুগঞ্জ স’মিল শ্রমিক সংঘের নেতা আনোয়ার হোসেন, দক্ষিণ সুরমা স’মিল শ্রমিক সংঘের নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন, বড়লেখা স’মিল শ্রমিক সংঘের নেতা লাল মিয়া, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ছাদেক মিয়া প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতির বাজারে স’মিল শ্রমিকরা দিশেহারা। চাল, ডাল, তেল, লবন, চিনি, পিয়াজ, শাক-সবজি, মাছ-মাংস, দুধ-ডিম, ঔষুধপত্রসহ নিত্যপণ্যে লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি দফায় দফায় জ্বালানি তেল, গ্যাস, বাড়িভাড়া-গাড়িভাড়া বৃদ্ধির কারণে শ্রমিকদের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রেই লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি ঘটলেও শ্রমিক-কৃষক-জনগণের আয় বাড়েনি। স’মিল সেক্টরে শ্রমিকদের সরকার নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করার প্রায় তিন বছর হতে চললেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকরা আন্দোলন সংগ্রামের পাশাপাশি মালিক ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহকে চিঠি দিলেও দৃশ্যমান কোনো কর্মতৎপতা নেই। উল্টো নানা অজুহাত দেখিয়ে কালক্ষেপন করে চলছেন। বাংলাদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলোর মধ্যে স’মিল সেক্টর একটি। এ সেক্টরের শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে থাকেন। তবুও পান না বাঁচার মতো নিম্নতম মজুরি।

বক্তারা বলেন, কর্মক্ষেত্রে ন্যূনতম নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না থাকায় অধিকাংশ সময় স’মিলে কর্মরত অবস্থায় দূর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকেন। কাজ করতে যেয়ে এ সমস্ত দূর্ঘটনার শিকার শ্রমিকের উপযুক্ত চিকিৎসা যেমন মালিক করে না, তেমনি অঙ্গহানি ও মৃত্যুর জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণও মূলত দেওয়া হয় না। অনেক সময় দিনে ১৪/১৫ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। স’মিল মালিকরা শ্রমআইন, রাষ্ট্রীয় আইনের তোয়াক্কা করেন না। শ্রমআইন অনুযায়ী নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিসবুক প্রদান, দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজ, অতিরিক্ত কাজের দ্বিগুণ মজুরি, মজুরিসহ সাপ্তাহিক ছুটি, নৈমিত্তিক ছুটি, চিকিৎসা ছুটি, উৎসব ছুটি, অর্জিত ছুটি ইত্যাদির প্রদানের বিধান থাকলেও তা প্রদান করা হয় না। যার কারণে স’মিল শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হচ্ছে।

সভা থেকে স’মিল সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন, শ্রমিকদের ধর্মঘট করার অধিকার হরণের ‘অত্যাবশকীয় পরিষেবা বিল-২০২৩’ প্রত্যাহার, গণতান্ত্রিক শ্রমআইন ও শ্রমবিধি প্রণয়ন, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার প্রতিষ্ঠা, ৮ ঘন্টা কর্মদিবস, নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদানসহ শ্রমআইন কার্যকর এবং চাল-ডাল তেলসহ নিত্যপণ্যের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং স্বল্পমূল্যে স্বর্বাত্মক রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবিতে ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।

শেয়ার করুন