ডেস্ক রিপোর্ট

৮ জানুয়ারি ২০২৪, ৯:১৭ অপরাহ্ণ

নির্বাচনে আ.লীগের শোচনীয় নৈতিক পরাজয় হয়েছে: বিএনপি

আপডেট টাইম : জানুয়ারি ৮, ২০২৪ ৯:১৭ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: ‘ভোট বর্জন করায়’ দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছে বিএনপি। দলটি বলেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শোচনীয় নৈতিক পরাজয় ঘটেছে। একতরফা নির্বাচনে যে সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে তা অবৈধ-অগণতান্ত্রিক। দেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এ আন্দোলনে জনগণকে আরও সম্পৃক্ত করতে দু’দিনের গণসংযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। মঙ্গলবার ও বুধবার সারাদেশে ‘ডামি’ নির্বাচনের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে লিফলেট বিতরণ করা হবে।

নির্বাচনের পরদিন সোমবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হলো। দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের বিষয় তুলে ধরা হয় এতে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, একদলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না তা আবারও প্রমাণ হয়েছে। সরকার ধারাবাহিকভাবে ভোটাধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে। নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা কেড়ে নিয়েছে। ভোট বর্জন করে জনগণ প্রমাণ করেছে, এই সরকার ও তাদের নির্বাচন কমিশন ভুয়া। এ নির্বাচনের পর বর্তমান সরকারকে বলা যায় ‘অব দ্য ডামি, বাই দ্য ডামি, ফর দ্য ডামি’।

ড. মঈন খান বলেন, কোনো নির্বাচন হয়নি। ডামি নির্বাচন কমিশন, ডামি প্রার্থী, ডামি ভোটার এবং সর্বশেষ ডামি অবজারভার নিয়ে একটা নাটক হয়েছে। তাদের নির্বাচনী অবজারভার ভাড়া করে আনা হয়েছিল। সেই বিদেশিদের একজন বলেছেন, এটা কোনো নির্বাচন নয়। ক্ষমতাসীনরা ডামি প্রার্থী দিয়ে কৃত্রিম প্রতিযোগিতা করেও ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিতে পারেননি। ভোটারশূন্য ভোটকেন্দ্রে ডামি ভোটারদের দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল।

তিনি বলেন, সরকারের এই নাটকের প্রতি জনগণের কোনো আগ্রহ নেই। নির্বাচনের নামে আওয়ামী লীগ ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় মারামারি করেছে, খুনাখুনিও হয়েছে। একটা বা চারটা ভোটকেন্দ্র বন্ধ করে নির্বাচন কমিশন তার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। এটা হাস্যকর চেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়। অবৈধ সরকার, গণপ্রতিনিধিত্ববিহীন সংসদ এবং বর্তমান মেরুদণ্ডবিহীন নির্বাচন কমিশন দিয়ে দেশে কোনোদিন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠা করা দরকার। এর জন্য দরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। এই নির্বাচন জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং যে পরিমাণ ভোট দেখানো হচ্ছে সেটা ভুয়া। ২৭ থেকে ৪০ শতাংশ ভোটের ঘোষণা মিথ্যা। এটি প্রকাশ হয়ে গেছে নির্বাচন কমিশন সচিবের বক্তব্যে। কানে কানে শিখিয়ে দেওয়া বক্তব্যই দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। সরকারের ভাড়াটিয়া অবজারভারও বলেছে ভোট হয়নি।

তিনি বলেন, বিএনপিসহ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনরত সব রাজনৈতিক দলের দাবি হলো, অবিলম্বে ৭ জানুয়ারির এই ডামি নির্বাচন বাতিল করতে হবে, শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করে তার অধীনে জাতীয় নির্বাচন করতে হবে। রাষ্ট্রের ওপর জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা এবং গুম-খুন-গায়েবি মামলা ও পেশিশক্তি দিয়ে জনগণের আন্দোলন দমনকারী সরকারের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে। দুর্নীতি, ব্যাংক লুট, অর্থ পাচার আর সিন্ডিকেট করে জনগণের সব সম্পদ ও অর্থ লুণ্ঠনকারী সরকারকে বিদায় করতে হবে। এই দাবিতে গণসংযোগ করবেন তারা।

এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, অসহযোগ আন্দোলনের অংশ হিসেবেই ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছিলেন তারা। জনগণ ভোট বর্জন করেছে। গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিএনপি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাস করে। এ জন্য নির্বাচনে বাধা দিতে যাননি। ভোটে অংশগ্রহণকারীরা নিজেরা বাধা দিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় গোলাগুলি করেছে, মানুষের প্রাণ গেছে, ভাঙচুর হয়েছে। তারা নিজেরা ডামি প্রার্থী বানিয়েছে। ক্রেন দিয়ে চেষ্টা করা হয়েছে কিছু লোককে জেতানোর জন্য। যাদের টেনে তোলা হয়নি তারা পরাজিত হয়েছে। গণতন্ত্র, নির্বাচন, সংবিধান নিয়ে রসিকতা করার অধিকার কারও নাই। সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন