ডেস্ক রিপোর্ট
২৪ নভেম্বর ২০২৩, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল – বাসদ এর ৪৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ১০৬ বার্ষিকী উপলক্ষে বাসদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে সমাবেশ পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়।
বাসদ চট্টগ্রাম জেলা ইনচার্জ আল কাদেরী জয়ের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড আব্দুর রাজ্জাক, জেলা কমিটির সদস্য কমরেড স. ম. ইউনুচ, কমরেড হেলাল উদ্দিন কবির, কমরেড আকরাম হোসেন,কমরেড আহমেদ জসীম, ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ চট্টগ্রাম জেলা সদস্য মোহাম্মদ শহীদ।
সমাবেশ পরিচালনা করেন জেলা সদস্য রায়হান উদ্দিন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, শাসক দলের একগুঁয়েমির ফলে রাজনৈতিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে একতরফা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা জনগণের আকাঙ্ক্ষার সাথে প্রহসন। নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আজ প্রর্যন্ত ৫৩ বছরে শাসকরা একটাও অবাধ নির্বাচন করতে পারেনি। এটা শাসকরা চরম ব্যর্থতা ও জাতির জন্য লজ্জার। জনগণকে যদি ক্ষমতার অংশীদার করা না হয়, অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে অবশ্যম্ভাবীভাবে চলে আসে স্বৈরাচারী শাসন, কতৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন। সরকার বিরোধী শক্তির উপর দমন – পীড়ন, নির্যাতন অব্যাহত রাখছে। নির্বতনমূলক আইন করে বাকস্বাধীনতা হরণ করে চলেছে। মানুষের প্রবল চাওয়াকে এরা পুলিশ ও দলীয় বাহিনী দিয়ে সন্ত্রাসী বাহীনি দিয়ে দমন করছে। মানুষ ভোট দিতে পারবে না বলে এখন ভোটকেন্দ্রে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, শাসক দলের নেতানেত্রীরা প্রতিদিন নির্লজ্জ মিথ্যাচার করে যাচ্ছে যে, তারা গণতন্ত্র দিয়েছে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বজায় রাখবে। মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করবে। বাস্তবে এরা বিগত দিনে যা করেছে তা ভোটের নামে প্রহসন।
নেতৃবৃন্দ আরো বলনে, দেশে গণতন্ত্র না থাকলে শাসকদের জনগণের কাছে জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা থাকে না,খেয়ালখুশিমতো যা ইচ্ছা তা ই করতে পারে। যে কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম এখন নিয়ন্ত্রণ করে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট।নির্বাচন কমিশন আবারো একতরফা প্রহসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পায়তারা করছে। সকল বিরোধী দল ও জনগণ মনে করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তদারকি সরকার ছাড়া নির্বাচন গ্রহযোগ্য হবে না।
বক্তারা বলেন, গণতান্ত্রিক শাসন কার্যকর করতে হলে রাষ্ট্রীয় সকল অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপর দাঁড় করাতে হয়। প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীসমূহ,আইন ও বিচার ব্যবস্থা সামরিক বাহিনীসহ সকল বাহিনী, স্বায়ত্তশাসিত আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহ, নির্বাচনী ব্যবস্থাসহ আইন ও কমিশন অর্থ ব্যবস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি গণতান্ত্রিক নীতি ও পদ্ধতির দ্বারা পরিচালিত হতে হবে। শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে যুক্তিবাদী প্রগতিমূখী গণতান্ত্রিক চেতনায় সাজাতে হবে।
বক্তারা অবিলম্বে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে করার দাবী জানান।
সমাবেশ শেষে একটি লাল পতাকা মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।