ডেস্ক রিপোর্ট
২ অক্টোবর ২০২৩, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বিরোধী দল প্রোগ্রেসিভ পার্টি অব মালদ্বীপসের (পিপিএম) প্রার্থী মোহামেদ মুইজ্জু। শনিবার অনুষ্ঠিত দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়েছেন তিনি।
নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট মালদ্বীপিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির (এমডিপি) নেতা ইব্রাহিম মোহমেদ সলিহ। আগামী ১৭ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন মোহামেদ মুইজ্জু।
মোহামেদ মুইজ্জু চীনঘেঁষা হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত। পক্ষান্তরে মালদ্বীপের শক্তিশালী প্রতিবেশী এবং ঐতিহাসিকভাবে দেশটির নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগী ভারতের প্রতি তুলনামূলক কম আগ্রহী তিনি।
মালদ্বীপের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ ভারতপন্থী হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে মুইজ্জুকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত মুইজ্জুকে অভিনন্দন। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান দেখানো জনগণকেও অভিনন্দন জানাচ্ছি।’
মোহামেদ মুইজ্জু (৪৫) যুক্তরাজ্যে পুরকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে মালদ্বীপের রাজধানী মালের মেয়র তিনি।
মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের শাসনামলে অবকাঠামো নির্মাণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোহামেদ মুইজ্জু। ২০১৮ সালে আবদুল্লাহ ইয়ামিনকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসেন ইব্রাহিম সলিহ। এরপর দুর্নীতির অভিযোগে ইয়ামিনকে কারাগারে পাঠানো হয়। তাঁর অনুপস্থিতিতে দলের হাল ধরেন মুইজ্জু।
আবদুল্লাহ ইয়ামিনের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালনকালে চীনের অর্থায়নে মালদ্বীপে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন মুইজ্জু। এসব প্রকল্পের মধ্যে রাজধানী মালের সঙ্গে দেশের প্রধান বিমানবন্দরের সংযোগকারী সেতু নির্মাণও রয়েছে। ২০ কোটি ডলার ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়।
শুধু মন্ত্রী থাকাকালেই চীনের সঙ্গে কাজ করেননি মুইজ্জু। এরপরেও চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন। গত বছর চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের সঙ্গে এক ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে অংশ নেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘দল ক্ষমতায় এলে আমাদের দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।’