ডেস্ক রিপোর্ট
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশিদ ফিরোজ আজ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ সংবাদপত্রে দেয়া এক বিবৃতিতে সকল গণতান্ত্রিক মহলের দাবি উপেক্ষা করে এবং তড়িঘড়ি করে সংসদের শেষ অধিবেশনে নিবর্তনমূলক সাইবার নিরাপত্তা বিল ২০২৩ পাশ করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, অতীতের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মত সাইবার নিরাপত্তা আইনটিও সমালোচনা, ভিন্নমত ও মুক্তচিন্তা দমনের ক্ষেত্রে সরকারের হাতে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। আইনের ৪২ ধারায় বিনা পরোয়ানায় তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতার, ২৭ ও ৩২ ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি ১ কোটি টাকা জরিমানা এবং ১৪ বছর কারাদণ্ডের বিধান, ২৮ ধারায় (ঘৃণ্য ব্লাসফেমি আইনের নবসংস্করণ) ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাতের শাস্তির নামে ২ বছরের জেল ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান বাস্তবে সাংবাদিক ও সচেতন মানুষদের হয়রানির কাজে ব্যবহৃত হবে। ফলে সাইবার নিরাপত্তা নয়, ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা নিরুপদ্রুপ করাই এ আইন পাশ করার অন্যতম উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতই অপরাধ চিহ্নিত করা ও হয়রানি করার সকল বিধান সন্নিবেশিত আছে এই আইনে। আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৪ সালের নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে বিএনপি-জামাত জোট সরকার প্রণীত আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারা ব্যবহার করেছিল, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট প্রণয়ন করেছিল আর আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে জনমত উপেক্ষা করে একই রকম নিবর্তনমূলক সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট কণ্ঠ ভোটে পাশ করা হলো। যা মুক্তচিন্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিক এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে হরণ করবে।
তিনি বলেন, নিবর্তনের আইন প্রণয়নে সরকার এত উদগ্রীব যে তাদের বন্ধুপ্রতিম সংগঠনসমূহের প্রতিবাদকেও অগ্রাহ্য করতে দ্বিধা করেনি। তিনি এই আইনসহ সকল নিবর্তনমূলক কালা-কানুন বাতিলের দাবিতে গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সকল প্রগতিশীল গণতন্ত্রমনা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।