ডেস্ক রিপোর্ট

২৪ আগস্ট ২০২৩, ১০:২৯ অপরাহ্ণ

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসের ডাক নারীমুক্তি কেন্দ্রের

আপডেট টাইম : আগস্ট ২৪, ২০২৩ ১০:২৯ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: নারী ও শিশু ধর্ষণ সহিংসতা বন্ধ কর, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল কর, অবিলম্বে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে বলে দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র।

আজ বিকাল সাড়ে ৪টায় পুরানা পল্টন মোড়ে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের উদ্যোগে ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষ্যে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি সীমা দত্ত—এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক তৌফিকা লিজা ও ঢাকা নগরের সদস্য সুস্মিতা রায়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, “১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট ১৪ বছরের গৃহকমীর্ ইয়াসমিন হত্যাকে কেন্দ্র করে যে বিশাল গণআন্দোলন গড়ে উঠেছিলো সেই গণআন্দোলনই জন্ম দিয়েছে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। ইয়াসমিনের বাড়ি দিনাজপুরে। ঢাকা থেকে সে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে গাবতলী থেকে বাসে ওঠে। ভোর রাতে দিনাজপুরের ১০ মাইল এলাকায় বাস থেকে নেমে সে বাড়ি যাবার জন্য আর একটি বাসের অপেক্ষা করছিলো। টহলরত পুলিশ তাকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ভ্যানে তুলে নেয় এবং ইয়াসমিনকে গণধর্ষণ ও হত্যা করে রাস্তার পাশের জঙ্গলে ফেলে দেয়। পুলিশ ভেবেছিলো তাদের এই অপকীর্তি কেউ বুঝতে পারবে না। ভোরের আলো ফুটতেই একটা লাশ দেখতে পেল স্থানীয় জনগণ। দশ মাইলের দোকানদার ও কাস্টমার যারা দেখেছে ইয়াসমিনকে পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়েছে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেবে বলে, তারা সনাক্ত করলো এই লাশ ইয়াসমিনের। পুলিশ নানাভাবে চেষ্টা করেছে নিজেকে রক্ষা করতে। ইয়াসমিনকে তারা পতিতা বলে পরিচিত করাতে চেয়েছিলো। হুমকি, মিছিলে গুলি, মিথ্যা তদন্ত রিপোর্ট ইত্যাদি নানা কারসাজি করেও তারা বাঁচতে পারেনি। সেদিন দিনাজপুরসহ সারা বাংলাদেশে এর বিরুদ্ধে বিপুল গণআন্দোলন পুলিশের সকল অপচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দিয়ে প্রমাণ করলো পুলিশ ভ্যানে থাকা ৩ পুলিশ কর্মকর্তা—কনস্টেবল-চালক তারাই ইয়াসমিনের গণধর্ষণ ও খুনের জন্য দায়ী। ৭ জন ভাইয়ের প্রাণের বিনিময়ে ৩ জন পুলিশের ফৌজদারী মামলায় বিচার হয় এবং ফাঁসীর রায় কার্যকর হয়।”

বক্তারা আরো বলেন, “আজ দেশে এক চরম অরাজকতা বিরাজ করছে। দুনীর্তি—লুটপাট—চুরি চলছে অবাধে। লুটপাটকারীদের রক্ষা করছে সরকার। পরিণামে জিনিসপত্রের দাম আকাশ ছোঁয়া। কতিপয় সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। বাসাভাড়া—বিদ্যুৎ—পানি সবকিছুর দাম বাড়ছে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীকেই যেহেতু গৃহস্থালী কাজ দেখতে হয় সেহেতু জীবনযাপনের ব্যয় বাড়ার সাথে সাথে নারীদের উপর নেমে আসে সংসারের নানান দুঃশ্চিন্তা। গার্মেন্টস শ্রমিকরা প্রতিবছর রেমিট্যান্স আনছে অথচ তাদের মজুরী বাড়ছে না। প্রবাসে নারী শ্রমিকরা যারা গৃহকমীর্ হিসাবে কাজ করছে তারা সেখানে পশুর মত জীবনযাপন করছে, কিন্তু তাদের নিয়ে সরকারের কোন মাথাব্যথা নেই। এই পরিস্থিতিতে শুধু নিম্নবিত্ত নয়, মধ্যবিত্তরাও আজ টিকে থাকার নিরব সংগ্রাম করে যাচ্ছে। এই অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে যাতে কেউ কোন প্রতিবাদ করতে না পারে তার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা কালা কানুন তৈরি করেছে সরকার। পাশাপাশি মদ জুয়া-ভিডিও গেইম-পনোর্গ্রাফী-ধমীর্য় বক্তৃতার নামে কূপকুণ্ডূক-সাম্প্রদায়িক-অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ নারী বিদ্বেষী বক্তব্য প্রচারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে নারী সম্পর্কে হীন মনোভাব তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিবাদের শক্তিকে ধ্বংস হরা হচ্ছে।

দেশে আজ গণতন্ত্র নেই। মানুষের ন্যূনতম যে ভোটের অধিকার তা—ও নেই। প্রতিমূহুর্তে সংবিধান ভূলুন্ঠিত হচ্ছে। আমরা সরকারের পদত্যাগ চাই। নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করি। ইয়াসমিন হত্যা দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিপুল গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে তবে সে অন্যায় পদানত হবেই হবে। বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র সেই গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।”

শেয়ার করুন