ডেস্ক রিপোর্ট

২৭ জুন ২০২৩, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

জাহানারা ইমামের ২৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে আলোচনাসভা

আপডেট টাইম : জুন ২৭, ২০২৩ ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ২৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আজ বিকাল ৫টায় ২নং রেলগেট¯হ বাসদ জেলা কার্যালয়ে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি মিমি পূজা দাসেরস ভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আক্তার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জেলার সভাপতি মুন্নি সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।

নেতৃবৃন্দ বলেন, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম, ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন দূরারোগ্য ক্যান্সারে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর সন্তান রুমি মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা কমান্ডার ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হন। একাত্তরের দিনগুলি’র লেখক জাহানারা ইমাম লেখক হিসেবে সুখ্যাতি থাকলেও সবকিছু ছাপিয়ে ৭১ এর ঘাতক বিরোধী আন্দোলনে নেতা হিসেবে জনগণের সামনে উপস্থাপিত হন। ১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর গোলাম আযমকে জামায়াতে ইসলামের আমীর ঘোষণা করলে তিনি ব্যাথিত ও ক্ষুব্ধ হন।

একাত্তরের যুদ্ধপরাধীদের বিচারের দাবিতে তিনি ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারিতে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠন করেন ও তিনি আহবায়ক নির্বাচিত হন। ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে তাঁর নেতৃত্বে গণআদালতে যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের ফাঁসির রায় ঘোষিত হয়। এই লড়াই করতে গিয়ে পুলিশের আক্রমনে আহত হতে হয়েছে। শুধু তাই নয় রাষ্ট্রদ্রোহীর মামলা নিয়ে তাঁকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। তাঁর সেই দিনের লড়াই বৃথা যায়নি। ২০১২ সালে শাহবাগ গড়ে উঠা তরুণ প্রজন্মের গনজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনে সরকার যুদ্ধপরাধীদের বিচার করে ফাঁসি কার্যকর করতে বাধ্য হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ অরো বলেন, জাহানারা ইমাম যে অসাম্প্রদায়িক শোষণমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল তা আজও গড়ে উঠেনি। মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতি- সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরেপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদÑ আজ ভুলুণ্ঠিত। সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম রেখে সাম্প্রদায়িক করা হয়েছে। হেফাজতের পরামর্শে বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যে পাঠ্যপুস্তকে বিভিন্ন দেশ বরেণ্য মনীষীর লেখা বাদ দিয়েছে। সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, মুক্তমনা ব্যক্তিদের উপর হত্যার ঘটনা ঘটেছে এই বাংলায়। মৌলবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে কওমী জননী
উপাধী পেয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দিয়ে এই ভিন্ন মত দমন করা হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হলেও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি এখনো বন্ধ হয়নি। বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে দেশ পরিচালনা করেছে। যা শহিদ জননী জাহানারা ইমাম কখনো ভাবতে পারেনি।

নেতৃবৃন্দ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে একটি অসাম্প্রদায়িক, শোষণমুক্ত রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য রাজপথে লড়াই করার জন্য জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন