ডেস্ক রিপোর্ট

২৬ এপ্রিল ২০২৩, ১১:২৩ অপরাহ্ণ

বিএনপি নেতা রিজভীর বক্তব্যই বাক্‌স্বাধীনতার আরেক প্রমাণ: তথ্যমন্ত্রী

আপডেট টাইম : এপ্রিল ২৬, ২০২৩ ১১:২৩ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী কারাগার থেকে বের হয়েই যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার মাধ্যমেই এটি আবার প্রমাণিত হয় যে দেশে বাক্‌স্বাধীনতা নিশ্চিত আছে।

আজ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তথ্যমন্ত্রী। এ সময় সাংবাদিকেরা জামিনে মুক্তি পেয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ‘ছোট কারাগার থেকে বড় কারাগারে এসেছি’, এমন বক্তব্যের প্রতি দৃষ্ট আকর্ষণ করলে মন্ত্রী এ কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘রিজভী সাহেব যদি মনে করেন উনি ছোট কারাগার থেকে বড় কারাগারে এসেছেন এবং উনি যদি আবার ছোট কারাগারে যেতে চান, তাহলে সরকার সে ব্যবস্থা নিতে পারে।’

গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটায় কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান রিজভী। কারা ফটকে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, ‘গোটা দেশই এখন কারাগার। ছোট কারাগার থেকে এখন বৃহত্তর কারাগারে প্রবেশ করেছি। বর্তমানে মানুষের কোনো অধিকার নেই। ভোটের অধিকার নেই, কথা বলার অধিকার নেই। গণতন্ত্রের মুক্তি মিললেই সব অধিকার ফিরে আসবে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশে যেভাবে বিরোধী দল সকাল-বিকেল-সন্ধ্যা, এমনকি মাঝেমধ্যে রাতের বেলাতেও সরকারের প্রতি বিষোদ্‌গার করছে এবং যেভাবে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে, সেটির নজির পার্শ্ববর্তী দেশেও আছে কি না, তাকিয়ে দেখুন। বিএনপিকে বা এ নিয়ে যাঁরা কথা বলেন, সমালোচনা করেন, খবরাখবর রাখেন, তাঁদের আমি বেশি দূরে যেতে বলব না, শুধু অনুরোধ জানাব, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দিকে তাকানোর জন্য।’

উদাহরণ দিয়ে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বক্তব্যের কারণে রাহুল গান্ধীর দুই বছর জেল হয়েছে, সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়েছে। রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে যিনি মামলা করেছেন, তিনি বিজেপির একজন সদস্য, এমপি ছিলেন। আমাদের দেশে বিরোধী দলের নেতারা যেভাবে বক্তব্য দেন এবং প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আমাদের দলের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে, এমনকি আমার বিরুদ্ধে, আমাদের বিরুদ্ধে যেভাবে বক্তব্য দেওয়া হয়, সে জন্য কি আমরা আদালতে গেছি। এখান থেকেই তো বোঝা যায় যে এখানে গণতান্ত্রিক চর্চা এবং বাক্‌স্বাধীনতা কত বেশি আছে; অর্থাৎ আমাদের এখানে গণতান্ত্রিক চর্চা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সেটি অনেক দেশের চেয়ে অনেক ভালো, উন্নত। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের চেয়ে অনেক ক্ষেত্রে আমাদের এখানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বেশি।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তরের আগে সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদ নেতারা তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরিষদের আহ্বায়ক খোরশেদ আলম খসরু, শিল্পী সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন, পরিচালক সমিতির সভাপতি কাজী হায়াৎ, চিত্রগ্রাহক সমিতির সভাপতি আবদুল লতিফ বাচ্চু, প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস, এডিটরস গিল্ডের সভাপতি আবু মুসা দেবু তাঁদের বক্তব্যে সিনেমা হল নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য এক হাজার কোটি টাকার সহজ ঋণ তহবিল গঠনের সফল উদ্যোগ, সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদের অনুরোধে হিন্দি সিনেমা আমদানির অনুমতি প্রদানসহ চলচ্চিত্রশিল্পকে এগিয়ে নিতে আন্তরিক, কার্যকর ভূমিকার জন্য তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদকে ধন্যবাদসহ ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি কাজী হায়াৎ এ সময় সমিতির পক্ষে ১০ দফা প্রস্তাব মন্ত্রীকে হস্তান্তর করেন।

শেয়ার করুন