ডেস্ক রিপোর্ট

২০ এপ্রিল ২০২৩, ৯:৫০ অপরাহ্ণ

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সেলিনা আক্তার শেলীকে বরখাস্তের প্রতিবাদে সমাবেশ

আপডেট টাইম : এপ্রিল ২০, ২০২৩ ৯:৫০ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: চট্টগ্রাম বন্দর মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সেলিনা আক্তার শেলীর সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে আজ ২০ এপ্রিল ২০২৩ সকাল ১১.৩০ টায় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম ঢাকা নগর শাখার সভাপতি সেলিনা ইয়াসমিন কনা।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার সদস্য সচিব জুলফিকার আলী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব কান্তি রায়, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম ঢাকা নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক রুখশানা আফরোজ আশা।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন।

সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম ঢাকা নগরের সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুস্মিতা মরিয়ম।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘সেলিনা আক্তার শেলী চট্টগ্রাম বন্দর মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং একজন কবি। ফেসবুকের একটি ফান পোস্টকে অজুহাত করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। এমনকি ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্টের অধীনে মামলা করা হতে পারে বলে হুশিয়ারি জানিয়েছে। তার পোস্ট ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এহেন ফান পোস্টকে কেন্দ্র করে কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক এবং অযৌক্তিক।’

নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘সারাদেশে একের পর এক এরকম ঘটনা ঘটে চলেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকারকে খর্ব করা হচ্ছে। কখনও প্রত্রিকায় খবর প্রকাশ করে, কখনও ফেসবুকে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের মতামত প্রকাশ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় পড়তে হচ্ছে। যে কোন বিষয়ে মানুষ তার মতামত দেবে এটা সংবিধান স্বীকৃত অধিকার। সেই অধিকারকে বারবারই খর্ব করা হচ্ছে এই কালাকানুনের প্রয়োগ করে বা ভয় দেখিয়ে।’

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘দেশে চলছে একটি অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসন। সরকার তার শাসন বহাল রাখার জন্য স্বৈরাচারী প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। তার প্রভাব সকল প্রতিষ্ঠানের ওপরও আছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আচরণও এই প্রভাবের বাইরে নয়। একজন শিক্ষক তার একটি মতামত মজা করে ফেসবুকে পোস্ট করেছে। এ বিষয়ে কারও কোন দ্বিমত থাকলে তার সাথেই আলোচনা করার সুযোগ ছিল। কিন্তু তার বহিষ্কার কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত হতে পারে না। এই সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক এবং অযৌক্তিক। অবিলম্বে তার বরখাস্তের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।’

সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সেলিনা আক্তার শেলীর বরখাস্তের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

শেয়ার করুন