ডেস্ক রিপোর্ট
৬ এপ্রিল ২০২৩, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: ইফতার মাহফিলের আয়োজন ঘিরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সমিতির হলরুমে চেয়ার ভাঙচুর করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার ইফতারের আগে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীদের ভাষ্য, হাতাহাতি, ভাঙচুর ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার পর সমিতির নবনির্বাচিত কমিটি সমিতি ভবনের দ্বিতীয় তলার হলরুমে ইফতার মাহফিল করে। অন্যদিকে বিএনপিপন্থী আইনজীবী ও অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির (অ্যাডহক কমিটি) সদস্যরা নিচতলায় সমিতি ভবনের সামনের দিকে ইফতার সারেন।
জানতে চাইলে সমিতির সম্পাদক মো. আবদুন নূর বলেন, সমিতির পক্ষ থেকে ইফতার আয়োজন করা হয়েছিল। আয়োজন প্রতিহত করতে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা সমিতি ভবনের হলরুমে এসে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেন। এতে অনেক আইনজীবী আহত হন ও ইফতারসামগ্রী নষ্ট হয়। এরপরও সাধারণ আইনজীবীদের শক্ত অবস্থানের কারণে ইফতার মাহফিল সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ১৫ ও ১৬ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন (২০২৩-২৪) হয়। এর আগে ১৩ মার্চ নির্বাচন পরিচালনাসংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক মো. মনসুরুল হক চৌধুরী ‘ব্যক্তিগত’ কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর সমিতির কার্যকরী কমিটিতে থাকা আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা পাল্টাপাল্টি আহ্বায়ক মনোনীত করেন। এ অবস্থায় কোন উপকমিটির মাধ্যমে নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে—এমন প্রশ্নে ১৫ মার্চ তর্কে জড়ায় দুই পক্ষ। পরে পুলিশ আইনজীবী ও সাংবাদিকদের পিটিয়ে সমিতির মিলনায়তন (ভোটকেন্দ্র) থেকে বের করে দেয়।
উপকমিটির আহ্বায়ক নিয়ে বিএনপি-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীদের আপত্তি এবং এর জেরে ভাঙচুর, পুলিশের পিটুনি, হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির মধ্যে গত ১৫ ও ১৬ মার্চ ভোট হয়। আনুষ্ঠানিক বর্জনের ঘোষণা না দিলেও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা দৃশ্যত ভোট থেকে সরে দাঁড়ান। ১৬ মার্চ রাতে ভোটের ফল ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ১৪টি পদের সব কটিতেই জয় পান আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্যানেলের আইনজীবীরা।
এদিকে গত ৩০ মার্চ ‘সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্যবৃন্দ’ ব্যানারে ‘তলবি সাধারণ সভা’ ডেকে নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন আইনজীবীদের একাংশ। সভায় আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদকে আহ্বায়ক ও শাহ্ আহমেদ বাদলকে সদস্যসচিব করে ১৪ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন করা হয় বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সমিতির নবনির্বাচিত কমিটি আজ ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আহ্বান করে। একই দিন অ্যাডহক কমিটির নামে সমিতি ভবনে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের ব্যানার দেখা যায়। উভয় ক্ষেত্রে ব্যানারে সময় বিকেল পাঁচটা উল্লেখ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী বেশ কয়েকজন আইনজীবী বলেন, অ্যাডহক কমিটি সমিতির উত্তর হলরুমে (২ নম্বর হল) ইফতারের ব্যানার টানাতে গেলে আওয়ামী লীগের সমর্থক আইনজীবীরা আপত্তি জানান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি হয়। একই সময় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা মিছিল নিয়ে হলরুমে প্রবেশ করেন। এতে আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে চেয়ার-টেবিল ছুড়ে ফেলেন তাঁরা। এ সময় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এরপর সমিতির দক্ষিণ হলরুমে (১ নম্বর হল) দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। ইফতার মাহফিলের জন্য রাখা চেয়ারও ভাঙচুর করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে চারটা থেকে সমিতি ভবনে দুই পক্ষের আইনজীবীরা পক্ষে-বিপক্ষে স্লোগান দেন। ইফতারের আগে একপক্ষ দ্বিতীয় তলায় ও অপর পক্ষ নিচতলায় অবস্থান নেয়।
অ্যাডহক কমিটির সদস্যসচিব শাহ আহমেদ বলেন, সমিতি ভবনের তিনটি হলরুমে ইফতারের আয়োজন করেছিল কমিটি। তবে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের নেতৃত্বে বহিরাগতরা হলরুম দখলের চেষ্টা চালান। সমিতির উত্তর হলে ইফতারের ব্যানার টানাতে গেলে তাঁরা তা কেড়ে নেন ও চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেন। এ অবস্থায় সমিতি ভবনের সামনের দিকে নিচতলায় ইফতারের আয়োজন করা হয়।
এদিকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে আমাদের সম্পৃক্ততা নেই। ঘটনার কারণ অ্যাডহক কমিটি ও আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছি।’