ডেস্ক রিপোর্ট
২২ মার্চ ২০২৩, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
মাগুরা প্রতিনিধি: চাল-ডাল-তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম কমানো, রেশন ব্যবস্থা চালু এবং মাগুরা জেলায় চিকিৎসাক্ষেত্রে নৈরাজ্য দূর করার দাবিতে গণকমিটি মাগুরা জেলার উদ্যোগে আজ ২২ মার্চ ২০২৩ সকাল ১১টায় চৌরঙ্গী মোড়ে মাগুরা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গণকমিটির আহ্বায়ক এটিএম মহব্বত আলী এবং সমাবেশ পরিচালনা করেন সদস্য সচিব প্রকৌশলী শম্পা বসু। বক্তব্য প্রদান করেন, গণকমিটি মাগুরা জেলার অন্যতম সদস্য বাসারুল হায়দার বাচ্চু।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জীবন আজ দুর্বিষহ। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সীমাহীন দুর্নীতির দায় সরকার জনগণের কাধে চাপিয়ে দিতে দফায় দফায় দাম বৃদ্ধি করছে, ব্যবসায়ীরা সরকারের প্রশ্রয়ে রোজার আগেই খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়েছে, শিক্ষা চিকিৎসার খরচ আকাশছোঁয়া, শ্রমিকদের মজুরি বাড়ছে না, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের মৃত্যু ঘটছে, ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না, কর্মস্থলে নিরাপত্তা নাই, প্রতিনিয়ত শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে, কৃষকরা ফসলের দাম পাচ্ছে না অথচ সার, কিটনাশক, বীজ সেচের খরচ দফায় দফায় বাড়ছে। দেশের বাইরে টাকা পাচারের চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশ পাচ্ছে কিন্তু অভিযুক্তরা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। টাকা পাচার, ব্যয়বহুল মেগা প্রকল্প, আর দুর্নীতির কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাচ্ছে আর তার দায় চাপানো হচ্ছে জনগণের কাধে। যেকোন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দমন পীড়ন ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা অপর্যাপ্ত। ডাক্তার, নার্স, মেডিকেল টেকনিশিয়ানসহ রয়েছে লোকবল সংকট। ওষুধ, টেস্ট, অপারেশনসহ বেশিরভাগ চিকিৎসাসেবা হাসপাতালের বাইরে থেকে নিতে হয়। উপজেলা পর্যায়েও সেভাবে কোন চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায় না। কমিউনিটি ক্লিনিক আছে কিন্তু সেখানে কোন ডাক্তার থাকেন না, প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না। অন্যদিকে ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধ ক্লিনিক গজিয়ে উঠেছে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার অপর্যাপ্ততার কারণে রোগীরা এসব ক্লিনিকে যেতে একভাবে বাধ্য হন এবং অপচিকিৎসার শিকার হন। আর সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা না থাকায় এই জেলার মানুষের চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেশি হয়ে যায় এবং অধিকাংশ দরিদ্র মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হন। অথচ বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী চিকিৎসা আমাদের মৌলিক অধিকার।
নেতৃবৃন্দ বলেন, অবিলম্বে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম ভেঙে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, মজুতদার ও মূল্যবৃদ্ধির জন্য দায়ীদের শাস্তি, রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে এবং মাগুরা জেলায় চিকিৎসা ক্ষেত্রে নৈরাজ্য বন্ধ করে, সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।