ডেস্ক রিপোর্ট
৯ নভেম্বর ২০২২, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্যাম্পাসের সামনে কর্ণকাঠী এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ শুরু করেন। রাত ১০টা পর্যন্ত তারা সড়কে ছিলেন। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন সাকুরা পরিবহনের প্রতিনিধিরা।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে- সাকুরা পরিবহন কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীর পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিরপূরণ দিতে হবে। চিকিৎসার গাফিলতির কারণ তদন্ত করে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে হবে। সাকুরা পরিবহনের রুট পারমিট সাময়িক বাতিল, প্রত্যেক যাত্রীবাহী বাসকে জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের আওতায় এনে অতিরিক্ত গতির জন্য স্বংক্রিয় জরিমানার ব্যবস্থা এবং স্পিড লক ব্যবস্থা কার্যকর করা।
এদিকে চার ঘণ্টার বেশি অবরোধে সড়কের উভয়পাশে বিপুল সংখ্যক যানবাহন আটকে পড়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। শিক্ষার্থীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়নে তাদের স্লোগান দিতে শোনা গেছে।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, গত ৬ নভেম্বর বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের ফরিদপুরের ভাঙ্গার মাধবপুরে সাকুরা পরিবহনের বেপরোয়া বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গাছে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের পঞ্চম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইসমাইল ইমন গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে তার মৃত্যু হয়।
শিক্ষার্থীরা বলেন, সাকুরা পরিবহনের বেপরোয়া গতির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এতে পরিবহনের চালকরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এ অবস্থায় দোষী চালকসহ পরিবহন সংশ্লিষ্ট যাদের গাফিলতিতে দুর্ঘটনা ঘটেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ৫ দফা দাবি বাস্তবায়নে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।
ঘটনাস্থলে থাকা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।