ডেস্ক রিপোর্ট
৬ নভেম্বর ২০২২, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক বলেছেন, ওষুধ তৈরিতে ভেজালকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১৪ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট- ১৯৭২ এ ধরনের শাস্তি বিধান রয়েছে।
রোববার (৬ নভেম্বর) সংরক্ষিত আসনের এমপি লুৎফুন নেসা খানের ভেজাল ওষুধ তৈরি ও বাজারজাত করার জন্য শাস্তির বিষয়ে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ভেজাল ওষুধ তৈরি ও বাজারজাত করা হয় সেটা আমরা জানি। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়, একদম হয় না তা বলব না। আমাদের দেশে প্রায় ৯৮ শতাংশ ওষুধ তৈরি হয় এবং প্রায় ৬৩টি দেশে তা রপ্তানি করা হচ্ছে। তবে ভেজাল ওষুধ নিয়ন্ত্রণের জন্য ঔষধ প্রশাসন কাজ করে। তাদের অনেক ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে কেউ নকল ওষুধ তৈরি ও বাজারজাত করতে না পারে।
তিনি বলেন, ওষুধে ভেজাল হলে রোগী মৃত্যুমুখে পতিত হবে তো বটেই। শুধু তাই না তার কিডনি বিকল হওয়ার পাশাপাশি নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেবে। এর প্রতিরোধে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, সরকার ওষুধে ভেজালকারীদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করে ‘দি ড্রাগস অ্যাক্ট-১৯৪৮, ড্রাগস অর্ডিন্যান্স-১৯৫৮ রহিতকল্পে ওষুধ আইন-২০২২ এ একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। যা মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদিত হয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
এ আইনে যে ধারাগুলো রয়েছে সেগুলো হলো, যারা লাইসেন্স ব্যতীত ওষুধ উৎপাদন করবে তাদের ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা রাখা হয়েছে। লাইসেন্স ব্যতীত ইন্টারনেটে বা যে কোনোভাবে ওষুধ বিক্রি করে তার জন্য ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা আছে। আর যদি লাইসেন্স ব্যতীত ওষুধ আমদানি করে তার জন্য ১০ বছরের জেল ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ওষুধ প্রশাসন দ্বারা ড্রাগ কোর্টে ১০১টি মামলা করা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা হয়েছে ৩০০টি, মোবাইল কোর্টে মামলা হয়েছে প্রায় ৮ হাজারটি। জরিমানা করা হয়েছে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা আর কারাদণ্ড হয়েছে প্রায় ২০০ জনের। ওষুধ জব্দ করা হয়েছে প্রায় ৮০ কোটি টাকার।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের ঔষধ প্রশাসনকে শক্তিশালী করার জন্য জনবল কাঠামো বাড়িয়ে ৩০০ থেকে ১ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ড্রাগ ইন্সপেক্টর আছে, তারা এগুলো সব সময় পর্যবেক্ষণ করছেন। ফার্মেসিগুলো ভিজিট করেন। ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনাসহ বেশ কয়েকটি শহরে ল্যাব আছে। সেখানে বাজার থেকে ওষুধ এনে পরীক্ষা করা হয়।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ভেজাল ওষুধ তৈরির জন্য ২০টি কারখানা সিলগালা করা হয়েছে, তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তবে ভেজাল ওষুধ তৈরি, বিক্রি, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, ভেজাল ওষুধ আমদানি করা যাতে না হয় তার জন্য আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদকে উদ্দেশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক বলেন, শুধু ওষুধে ভেজাল নয়, আপনারা বলছেন খাদ্যে ভেজাল! এখন আমি বলব শুধু এসবে নয়, রাজনীতিতেও ভেজাল সৃষ্টি হয়েছে। সেনা প্রধান যখন নিজেই প্রেসিডেন্ট বলে ঘোষণা করেন, দেশের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হন, তখন রাজনীতিতেও ভেজাল সৃষ্টি হয়। আপনারা সে ভেজাল সৃষ্টি করেছেন। আপনারা এখন মিটিং মিছিলে, সভা সমাবেশে লাঠি নিয়ে যান, এখানে কিন্তু লাঠি এলাউ না। তারপরেও আপনারা লাঠি নিয়ে সভা সমাবেশ করছেন। এটাও এক ধরনের রাজনীতিতে ভেজাল বলা যায়।