ডেস্ক রিপোর্ট
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:৪১ অপরাহ্ণ
বগুড়া প্রতিনিধি:: বিদ্যুতের মূল্যেবৃদ্ধির চক্রান্ত্রের প্রতিবাদে এবং বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং বন্ধের দাবিতে-বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকাল: ৪:৩০ টায় সাতমাথায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাসদ জেলা আহবায়ক কমরেড অ্যাড.সাইফুল ইসলাম পল্টু, বক্তব্য রাখেন বাসদ বগুড়া জেলা সদস্যসচিব কমরেড অ্যাড. দিলরুবা নূরী, বাসদ বগুড়া জেলা সদস্য, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট জেলা সভাপতি শ্রমিক নেতা কমরেড সাইফুজ্জামান টুটুল, বাসদ বগুড়া জেলা সদস্য, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট বগুড়া জেলা সাধারণ সম্পাদক কৃষক নেতা কমরেড শহিদুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম জেলা সহ সভাপতি রাধা রানী বর্মন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বগুড়া জেলা সভাপতি ধনঞ্জয় বর্মন প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।
কমরেড অ্যাড.সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন: আমরা দেখলাম গত: ২৮ তারিখের দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, অর্থ মন্ত্রনালয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কে বিদ্যুতের মুল্যেবৃদ্ধি করার কথা বলেছে। সরকার ইতোমধ্যে গত আগষ্ট মাসে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রল এর দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও উচ্চপর্যায়ে আছে। সরকার গত ২০২১ সালের নভেম্বর মাসেই ডিজেল লিটার প্রতি ১৫ টাকা, গত জুন মাসে গ্যাসের দাম এবং আগষ্ট মাসে ইউরিয়া সারের কেজি প্রতি ৬ টাকা এবং বিইআরসির গণশুনানী না করিয়ে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রল এর দাম বাড়িয়েছে। সরকার আবারও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির চক্রান্ত করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের অধিকাংশ মানুষের জীবন-যাপন দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে। আবারও বিদ্যুতের এই মূল্যেবৃদ্ধি করা হলে স্বাভাবিক ভাবে সকল ক্ষেত্রে জনজীবনের উপর প্রভাব পড়বে। তাই সরকারের এই অগণতান্ত্রিক জনবিরোধী চক্রান্ত প্রতিহত করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহŸান জানান।
কমরেড অ্যাড. দিলরুবা নূরী বলেন: বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধি, বিপিসির লোকসান এবং জ্বালানি তেল পাচারের অজুহাত তুলে সরকার গত ৫ আগস্ট সকল প্রকার জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়েছিল। এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়িয়ে দিয়েছিল বাসসহ পরিবহন ভাড়া এবং দ্রব্যমূল্য। সে সময় যুক্তিসঙ্গতভাবে প্রমাণ করা হয়েছিল যে, দুর্নীতি, লুটপাট বন্ধ করলে তেলের মূল্যবেৃদ্ধি করার তো কোন কারণ নেই বরং পূর্বের দামেই বিক্রি করা সম্ভব। বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিম্নমুখী এবং বিপিসির আর্থিক হিসাবের অসঙ্গতি (যা সংসদীয় কমিটি বলেছে) দূর করলে জ্বালানি তেলের দাম কমানো সম্ভব, এটা এখন প্রমাণিত। তাই বিদ্যুতের মূল্যেবৃদ্ধির চক্রান্ত প্রতিহত করতে জনগণের প্রতি আহŸান জানান।
সমাবেশে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন: ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম বৃদ্ধির ফলে জনমনে যে অসন্তোষ তাকে প্রশমিত করার নামে এক ধাক্কায় দাম বাড়িয়ে অল্প অল্প করে কমানোর এই নীতি মূলত ব্যবসায়ী তোষণ নীতি। সরকার সকল প্রকার জ্বালানির দাম লিটার প্রতি ৫ টাকা কমিয়ে এবং ব্যবসায়ীদের সুবিধা বৃদ্ধির করেছেন। এই মূল্য কমানোর কারণে পরিবহনের ভাড়া কমবে না বরং পরিবহন মালিকদের লাভ বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব কমবে মাত্র। এতে জনগণের উপকার হয় না বরং ব্যবসায়ীদের মুনাফা বৃদ্ধি হয় মাত্র।
নেতৃবৃন্দ বিদ্যুতের মূল্যেবৃদ্ধির চক্রান্ত প্রতিহত এবং ঘন ঘন লোডশেডিং বন্ধ করতে জনগণের প্রতি গণ আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।