ডেস্ক রিপোর্ট
২৩ জুলাই ২০২২, ১০:৩৮ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার তীব্র নিন্দা এবং অপরাধীদের শাস্তি প্রদানে ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থ প্রশাসনের প্রতি ধিক্কার জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নেটওয়ার্ক।
এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিগণ বলেন “গত ১৭ জুলাই রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হল সংলগ্ন এলাকা দিয়ে এক শিক্ষার্থীকে তার বন্ধুসহ নিজ হলে ফেরার পথে মারধর, ছিনতাই, শ্লীলতাহানী ও এর ভিডিও ধারণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পত্রিকা মারফত আমরা জানতে পেরেছি এই ঘটনার সাথে চবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়িত। ভিক্টিম শিক্ষার্থী প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাকে বাধা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরও লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করতে অপারগতা জানান। প্রক্টর ভিকটিমকে ‘চুপ থাকা’রও পরামর্শ দেন। এক পর্যায়ে প্রক্টর ভিক্টিম ব্লেমিং শুরু করেন, বলতে থাকেন ভিক্টিম কেনো এত রাতে বের হয়েছে! অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচার করার কোনো দৃশ্যত পদক্ষেপ না নিয়ে এরপর প্রশাসন রাত ১০ টার মধ্যে মেয়ে শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের ঘোষণা দিয়ে এক ন্যক্কারজনক সিদ্ধান্ত নেয়। মূলত ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের দোষ ঢাকতে ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রদানের ব্যর্থতা লুকাতে প্রশাসন এরূপ অবহেলা করেছে। শুধু চবিতেই নয়, বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়েই আমরা প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের এরূপ মেলবন্ধন দেখতে পাই। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সারাদেশে যে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা কায়েম করেছে, সেটা টিকিয়ে রাখতে তাদের ছাত্র সংগঠন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসের পরিবেশ বজায় রেখেছে।
যেহেতু প্রশাসনও সরকারি আশীর্বাদেই নিয়োগপ্রাপ্ত, ফলে তারা সরকারি ছাত্র সংগঠনের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের কোনো বিচার করে না এবং তা হ্রাস করারও চেষ্টা করে না। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা কোনো পরিণতির কথা না ভেবেই ইচ্ছেমত অপরাধ করতে পারে। আবার প্রশাসন যেহেতু নিজ যোগ্যতায় ও শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেটে নিয়োগপ্রাপ্ত নয়, ফলে তাদের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ তথা নিরাপত্তা নিয়ে কোনো মাথাব্যাথা নেই।”
তারা আরো বলেন “এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসন রাত ১০ টার মধ্যে মেয়ে শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের নির্দেশ দেয়। বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে এরূপ সান্ধ্য আইন বিদ্যমান রয়েছে। আমরা বলতে চাই, নারীদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা হওয়ার মূল কারণ তাদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা নয়, বরং নিপীড়কের মনন কাঠামো যা এই সমাজ ব্যবস্থায় প্রতিনিয়ত পুনরুৎপাদিত হতে থাকে। যৌন নির্যাতন রোধের জন্য এই সমাধান খোঁজার অর্থই হল সম্পূর্ণ দোষ নারীদের উপর চাপিয়ে দেওয়া। আমরা এখানে আমাদের ধর্ষক উৎপাদনকারী সমাজব্যবস্থার প্রতিক্রিয়াশীল চিন্তাধারা ও প্রশাসনের চিন্তাধারার মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখতে পাচ্ছি না। আমরা চবিসহ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের সান্ধ্য আইনগুলো বাতিল করার দাবি জানাচ্ছি।”
পরিশেষে প্রতিনিধিরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির সাথে পূর্ণ সংহতি জ্ঞাপন করে চবি প্রশাসনকে দাবি মেনে নেওয়ার আহবান জানান।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবিসমূহ—
১) ছাত্রীদের হলে প্রবেশের ক্ষেত্রে সময়সীমা বেঁধে দেয়ার অন্যায্য সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে।
২) অকার্যকর যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল বাতিল করে নতুন করে কার্যকর সেল গঠন করতে হবে। এই সেল সকল অভিযোগের ক্ষেত্রে ১ মাসের ভিতরে তার নিষ্পত্তি করবে।
৩) আগামী ৪ কর্মদিবসের মধ্যে চলমান ঘটনাগুলোর বিচার ও সুষ্ঠু সমাধান করতে হবে।
৪) এই ৪ কর্মদিবসের মধ্যে সমাধানে ব্যর্থ হলে প্রক্টরিয়াল বডি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী শিক্ষার্থীবৃন্দ
১) অর্ণি আনজুম—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
২) আদনান আজিজ চৌধুরী—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৩) আরাফাত সাদ—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৪) আসিফ ইকবাল—চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
৫) রাজেশ্বর দাশ গুপ্ত—চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
৬) আশরাফী নিতু—চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
৭) মহব্বত হোসেন মিলন—রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
৮) আজিজুল হক—রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
৯) নাজমুল মিলন—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
১০) রোমিয় রহমান—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
১১) ইশতিয়াক আহমেদ রিফাত—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
১২) কৃষ্ণেন্দু বাছাড়—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
১৩) রিহাদ মাহমুদ—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
১৪) আসাবুর রহমান—খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
১৫) ঋদ্ধ অনিন্দ গাঙ্গুলী—জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
১৬) অমর্ত্য রায়—জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
১৭) জামান কবীর—বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
১৮) সুজয় শুভ—বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
১৯) স. মুহম্মদ নাহিন রহমান—খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
২০) মাশরুখ জলিল—মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি
২১) মনীষা ওয়াহিদ—মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি
২২) জি. কে. সাদিক—ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
২৩) তানভীর তন্ময়—আইইউবিএটি
২৪) তানজিদ সোহরাব—আইইউবিএটি
২৫) তামজিদ মুশফিক—হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
২৬) তাহমিদ হোসেন—বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)
২৭) সাইফুর রূদ্র—বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ
২৮) আমিনুল ইসলাম ইমন—জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়