ডেস্ক রিপোর্ট

৩ জুন ২০২২, ২:২১ অপরাহ্ণ

বাজেটের ২৫ ভাগ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের দাবি

আপডেট টাইম : জুন ৩, ২০২২ ২:২১ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: আসন্ন জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে ২৫ ভাগ বরাদ্দ সহ ৩ দফা দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ছাত্র সমাবেশ ও অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ।

আসন্ন জাতীয় বাজেটের ২৫ ভাগ ও জিডিপির ৮ ভাগ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ করা, শিক্ষা সংকোচন ও বাণিজ্যিকীকরণের সকল নীতি ও পরিকল্পনা অবিলম্বে বাতিল করা ও সন্ত্রাস – দখলদারিত্বমুক্ত শিক্ষার গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ ৩ দফা দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, চট্টগ্রাম নগর শাখার উদ্যোগে চট্টগ্রাম নিউমার্কেট মোড়ে ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম নগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব হোসেনের পরিচালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নগর শাখার সভাপতি মিরাজ উদ্দিন, বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রায়হান উদ্দিন ও নগরের স্কুল সম্পাদক উম্মে হাবিবা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রতি বছর আমাদের দেশের বাজেটের আকার বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিসেবা খাতে বরাদ্দ দিনদিন কমছে। বিপরীতে সামরিক খাতের মতো অনুৎপাদনশীল খাতে বরাদ্দ দিন দিন বাড়ছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৭৮৬ কোটি টাকার প্রথম বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের ২২ শতাংশ। ৫০ বছর পরে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটের আয়তন বেড়ে প্রায় ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা হলেও শিক্ষাখাতে বরাদ্দ মোট বাজেটের মাত্র ১১.৯ ভাগ। প্রতিবছর বাজেটের আকার বাড়লেও কমছে শিক্ষাখাতে বরাদ্দের পরিমাণ। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের ১৫.২ শতাংশ। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের ১১.৬০ শতাংশ ও মোট জিডিপির ২.০৯ ভাগ। দীর্ঘসময় ধরে শিক্ষাখাতে বাজেটের ২৫ শতাংশ ও জাতীয় আয়ের ৮ শতাংশ বরাদ্দের যে দাবি ছাত্র সমাজ উত্থাপন করে চলেছে , তা উপেক্ষিত হয়ে আসছে। ইউনেস্কোর মত অনুযায়ী একটি দেশের শিক্ষায় জিডিপির নূন্যতম ৬ ভাগ বরাদ্দ রাখা উচিত। সেখানে আমাদের বরাদ্দের পরিমাণ ২ ভাগের আশেপাশে উঠা নামা করে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ গুলির মধ্যে শিক্ষাখাতে বরাদ্দের পরিমাণের দিক দিয়ে সর্বনিম্ন অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। করোনা মহামারীর এই সময়ে দুটি বাজেট প্রনয়ন করা হয়েছে। মহামারীর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল দেশের শিক্ষাব‍্যবস্থা। সংকটকালীন বিপর্যয় মোকাবেলা করার জন্যে যে বিশেষ মনোযোগ প্রয়োজন ছিল তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট প‍রিকল্পনা ও তার পরিপূরক বরাদ্দ মেলেনি। করোনার অর্থনৈতিক সংকটে যেসব শিক্ষার্থীদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য বিশেষ কোনো অনুদান হয়নি। বিশেষ ভর্তুকি প্রদান পূর্বক করোনাকালীন সময়ের বেতন ফি মওকুফ করার দাবিও সরকার মানেনি। ফলস্বরূপ একটি বিপুল অংশের শিক্ষার্থীকে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়তে হয়েছে।

সমাবেশ শেষে নগর কমিটির একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি পেশ করে।

শেয়ার করুন