ডেস্ক রিপোর্ট

২৮ মে ২০২২, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধায় সিক্ত হলেন গাফ্‌ফার চৌধুরী

আপডেট টাইম : মে ২৮, ২০২২ ৩:৩৬ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: কালজয়ী ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’র রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীকে সেই গান গেয়ে ২১ ফেব্রুয়ারির প্রতীক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা জানানো হয়। আজ শনিবার বেলা সোয়া একটার দিকে ঢাকা জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এরপর শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহের কফিন অনুষ্ঠানের মঞ্চে নেওয়া হয়।

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীকে প্রথমে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান তাঁর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাউদ্দীন। এরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কবির আহমেদ শ্রদ্ধা জানান। এরপর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী শ্রদ্ধা জানান। আওয়ামী লীগের পক্ষে দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন বেলা তিনটা পর্যন্ত চলবে।

এর আগে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলাম লেখক আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে। আজ বেলা ১১টার দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে বহনকারী একটি ফ্লাইট দেশে পৌঁছায়।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি ২০২ ফ্লাইট শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এই ফ্লাইটেই আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ দেশে এসে পৌঁছায়।

এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান, শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

এর আগে জানানো হয়, বেলা একটার দিকে আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ জাতীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। সেখানে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। বেলা সাড়ে তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল চারটায় মরদেহ জাতীয় প্রেসক্লাবে নেওয়া হবে। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হবে।

গত বৃহস্পতিবার ভোরে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

বরিশালের উলানিয়া গ্রামের চৌধুরীবাড়িতে ১৯৩৪ সালের ১২ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী। তিনি একজন সুপরিচিত বাংলাদেশি গ্রন্থকার ও কলাম লেখক। স্বাধীনতাযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের মাধ্যমে নিবন্ধিত স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা সাপ্তাহিক ‘জয় বাংলা’র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন।
অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী গাফ্‌ফার চৌধুরী ঢাকার মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্ত্রীর পাশেই শেষশয্যা নেবেন।

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ছিলেন চার মেয়ে ও এক ছেলের বাবা। তাঁর মেয়ে বিনীতা চৌধুরী ৫০ বছর বয়সে গত ১৩ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন। হাসপাতালে থেকেই মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছিলেন তিনি। বিনীতা চৌধুরী বাবার সঙ্গে লন্ডনের এজওয়ারের বাসায় থাকতেন এবং তাঁকে দেখাশোনা করতেন।

সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ইউনেসকো পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, মানিক মিয়া পদকসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন গাফ্‌ফার চৌধুরী। বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করেছে।

শেয়ার করুন