ডেস্ক রিপোর্ট
২৫ মে ২০২২, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ
সিলেট প্রতিনিধি:: বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এবং গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সহযোগিতায় সিলেট শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গত ২০ মে থেকে ২২ মে’২২ তারিখ পর্যন্ত ৩ দিনব্যাপী একটি কর্মশালায় মুরাদ খান নামে জনৈক বির্তকতি ব্যক্তিও। নামটি জড়িত কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার একটি বিতর্কিত প্রতিবেদনের সঙ্গে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে করা সেই প্রতিবেদনের বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনজন। তাদের একজনের নাম মুরাদ খান বলে জানা যায়। ওই নামের এক ব্যক্তি অতিথি মঞ্চে বসে গত ২২ মে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এ ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে সিলেটে। বইছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। এই মুরাদই সেই মুরাদ কিনা তা নিয়ে চলছে খোঁজ। মুরাদকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে আয়োজক বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে অনিচ্ছাকৃত উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে যতো দ্রুত সম্ভব সেই ‘কুখ্যাত ব্যক্তি’ মুরাদকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
বুধবার, ২৫ মে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন সভাপতিমণ্ডলির সদস্য অনিরুদ্ধ কুমার ধর , সাংগঠনিক সম্পাদক, (সিলেট বিভাগ) জালালউদ্দিন রুমী, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য তনু দীপ দাশ, স্থানীয় সমন্বয়কারী (কর্মশালা) নাট্যকর্মী ধ্রুবজ্যোতি দে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এবং গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সহযোগিতায় সিলেট শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গত ২০ মে থেকে ২২ মে’২২ তারিখ পর্যন্ত ৩ দিনব্যাপী একটি কর্মশালা সম্পন্ন হয়। এতে প্রশিক্ষক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য নাট্য নির্দেশক ড.সুদীপ চক্রবর্তী। সিলেট বিভাগের চারটি জেলার প্রশিক্ষনার্থীবৃন্দ অত্যন্ত আগ্রহ ও আনন্দের সাথে সফলভাবে সেই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে। সম্ভবত ফেসবুকে সেই কর্মশালার ছবি দেখে সমাপনী অনুষ্ঠানে অনেক দর্শকের সাথে মুরাদ খান নামে জনৈক ব্যক্তিও সেখানে আসেন। যার সাথে আমাদের ফেডারেশানের নেতৃবৃন্দ ও সিলেট জেলা কালচারাল অফিসারের কোনো প্রকার পূর্ব পরিচয় ছিল না।
বিবৃতিতে জানানো হয়, সমাপনী অনুষ্ঠানের উন্মুক্ত আলোচনা সেশনে সে কিছু বলার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে ও আয়োজকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আমরা তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে আরণ্যক ঢাকার প্রাক্তন কর্মী এবং প্রাচ্যনাটের “কইন্যা” নাটকের নাট্যকার, সিলেট দর্পন থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসাবে নিজেকে পরিচয় দেয়। সে আরও জানায় লন্ডনে “পূর্বনাট” নামে একটি থিয়েটার গ্রুপ পরিচালনা করে। এসব পরিচয় পেয়ে তাকে দর্শক হিসাবেই মতামত দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। উপস্থাপকের চেয়ারটি খালি ছিল বিধায় সে বক্তব্য রাখার পর খালি চেয়ারে বসে।
বিবৃতিতে উল্লেখ্য করা হয়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, সিলেট জেলা জেলা শিল্পকলা একাডেমি কিংবা গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান সিলেট বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে আমন্ত্রণ জানানোর কোন প্রশ্নই আসেনা।
সে কোন মুরাদ খান তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত কেউ তখন তার সম্পর্কে কিচ্ছু বলেনি। যার সম্পর্কে অভিযোগ তিনি যে সেই মুরাদ খান তা নিয়েও উপস্থিত আয়োজকবৃন্দ কেউ অবগত ছিলেন না। পরবর্তীতে ফেইসবুকে কেউ পোস্ট দিলে তা আমাদের নজরে আসে। এই ঘটনা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং তাৎক্ষণিক। তিনি যদি সেই কুখ্যাত ব্যক্তি হন তবে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানাই।
আমরা অনিচ্ছাকৃত উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি এবং যতো দ্রুত সম্ভব তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।