ডেস্ক রিপোর্ট

৯ মে ২০২২, ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ

ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’ এখনও দূরে; প্রস্তুত বাংলাদেশ

আপডেট টাইম : মে ৯, ২০২২ ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক::  ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’ দেশের সমুদ্রবন্দরগুলো থেকে এখনও হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে রয়েছে, যেটি ধীরে ধীরে ঘনীভূত হচ্ছে।

এর প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সতর্কতার পাশাপাশি পূর্বাভাস অনুযায়ী এটির এখন পর্যন্ত দেশের উপকূলে আঘাত হানার আশঙ্কা না থাকলেও প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়। উপকূলগুলোতে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ।

বুধবার নাগাদ এটি ওড়িশা-পশ্চিম উপকূলে অতিক্রমের আভাস রয়েছে। এসময় ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি ও দিকের উপর নির্ভর করবে বাংলাদেশ উপকূলে কেমন প্রভাব পড়বে। আজ খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায়, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ী দমকাসহ বৃষ্টি হতে পারে।

রবিবার আবহাওয়া অদিদপ্তরের সবশেষ বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, রবিবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১২০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১১২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১১৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১১৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’।

এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।

ঘূর্ণিঝড়টি প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ১৩ কিলোমিটার বেগে এগোচ্ছে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে তীব্র রূপ নিতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে এলেই ঘূর্ণিঝড়টির পরিস্থিতি আরও পর্যবেক্ষণ করে সম্ভাব্য গতিপথ আরও সুনির্দিষ্ট করা যাবে।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ বলেন, “ঘূর্ণিঝড়টি শক্তি বাড়িয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে এবং তার সম্ভাব্য গতিপথ ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিকে। ১১ মে নাগাদ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর আগেই উত্তর পূর্ব দিকে মোড় নিতে পারে এবং শক্তি হারিয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বলও হতে পারে। বৃষ্টিপাতের প্রবণতাও বাড়বে।”

ঘূর্ণিঝড়টি শক্তি হারিয়ে দুর্বল হওয়ার পর এর প্রভাবে বাংলাদেশেও বৃষ্টির প্রবণতা বাড়বে ধীরে ধীরে বলে জানান তিনি।

শুক্রবার দক্ষিণ আন্দামান সাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার পর তা ঘনীভূত হয়ে শনিবার নিম্নচাপ এবং পরে গভীর নিম্নচাপের রূপ নেয়। এরপর দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে রোববার ভোরে পরিণত হয় ঘূর্ণিঝড়ে।

আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেয় বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাইক্লোন সংক্রান্ত আঞ্চলিক সংস্থা এসকাপ। এ অঞ্চলের ১৩টি দেশের দেওয়া নামের তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে নতুন ঘূর্ণিঝড়ের নাম ঠিক করা হয়।

এ ঘূর্ণিচক্রের নাম দেওয়া হয়েছে অশনি, যেটি প্রস্তাব করে শ্রীলঙ্কা। সিংহলা ভাষায় এর অর্থ ক্রোধ।

বাঁক নিলে শঙ্কা, প্রস্তুতির কথা জানালেন প্রতিমন্ত্রী

দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান রবিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, আবহাওয়াবিদ ও আন্তর্জাতিক আবহাওয়া অফিস ধারণা করছে, ঘূর্ণিঝড়টি ১২ মে সকালে বিশাখাপত্নম, ভুবনেশ্বর, পশ্চিমবঙ্গ স্পর্শ করে দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হবে। বাংলাদেশে আঘাত হানার সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এর প্রভাবে বাংলাদেশে ঝড়বৃষ্টি হবে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাস হবে না বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, “ঘূর্ণিঝড় যেকোনো সময় যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে। এখন এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে ধাবিত হচ্ছে। এটি যদি মোড় নিয়ে উত্তর দিকে ধাবিত হয়, তাহলে আমাদের দেশের সাতক্ষীরা, খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীতে আঘাত হানতে পারে।”

মন্ত্রণালয়ে সবাইকে নিয়ে সভা করে সংশ্লিষ্টদের সচেতন করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

“মাঠে আছে সিপিপি স্বেচ্ছাসেবকরা। তারা ঘূর্ণিঝড়ের সতর্ক বার্তা প্রচার করছে। আমরা আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করার নির্দেশনা দিয়েছি। সেগুলোর প্রস্তুতি প্রায় শেষ। সেখানে রান্না করা খাবার দেওয়ার জন্য চাল ও অর্থ দিয়েছি। মোটামুটি প্রস্তুতি আছে। করোনার কারণে আশ্রয়কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি,” প্রস্ততির বিষয়ে বলেন প্রতিমন্ত্রী।

শেয়ার করুন